বিজিবি সদস্যদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘সীমান্ত ব্যাংক’-এর লোগো নির্বাচন করা হবে। আজ পিলখানায় বিজিবি দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ব্যাংকের লোগো নির্বাচন ও উদ্বোধন করবেন। এর পাশাপাশি সীমান্ত ব্যাংকের ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (ব্যাংক পরিচালনার জন্য ইচ্ছাপত্র) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছে তুলে দেবেন।
সকাল সাড়ে ৭টায় সদর দফতরে মহাপরিচালকের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে বিজিবি দিবস উদ্যাপন শুরু হবে। একই সময়ে দেশের সকল সেক্টর ও ব্যাটালিয়নে জাতীয় পতাকা ও বিজিবির পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৯টায় পিলখানায় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সাহসিকতার জন্য ৬০ জনকে বিজিবি পদক প্রদান করবেন। পরে চুয়াডাঙ্গা, ঠাকুরগাঁও ও খাগড়াছড়ির জালিয়া পাড়ায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট তিনটি হাসপাতালের কার্যক্রম উদ্বোধনের ফলক উন্মোচন করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বীর উত্তম খন্দকার ফজলুর রহমান মিলনায়তনে দরবার বৈঠক করবেন।
২০১০ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে বর্ডার গার্ড আইন পাস হওয়ার পর এই দিনটি বিজিবি দিবস হিসাবে উদ্যাপিত হচ্ছে। ৫ম বারের মতো বিজিবি দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রামগড়ে গোড়াপত্তন
ইত্তেফাকের রামগড় সংবাদদাতা জানিয়েছেন, আজ (রবিবার) বিজিবি দিবস উপলক্ষে রামগড়স্থ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। সকালে দোয়া মাহফিল, পতাকা উত্তোলন, দরবার, প্রীতিভোজ ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
১৭৯৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের রামগড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির গোড়াপত্তন হয় ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ নামে। সপ্তদশ শতকের শেষভাগে পার্বত্য চট্টগ্রামে লুসাই বিদ্রোহ দেখা দিলে এই এলাকা রক্ষার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রামগড়ে মাত্র ৪৮৬ জন সৈন্য নিয়ে ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ গঠন করে। অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে ছিল ৬ পাউন্ড গোলার ৪টি কামান। এ ছাড়া দুটি অনিয়মিত অশ্বারোহী দল ও যাতায়াতের জন্য ছিল কয়েকটি যানবাহন। পরবর্তীকালে ১৮৭৯ সালে ফ্রন্টিয়ার গার্ডস নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল রিজার্ভ বাহিনী, ১৮৯১তে বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ১৯১২ সালে ঢাকা মিলিটারি পুলিশ, ১৯২০ সালে বেঙ্গল ব্যাটালিয়ন অব ইস্টার্ন ফ্যন্টিয়ার রাইফেলস, ১৯৪৭-এ ভারত বিভক্তির পর নতুন নামকরণ হয় ইস্টার্ন পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)। অনেক বিবর্তন পরিবর্তন পরিবর্ধন এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ইপিআর নাম বদল করে বাহিনীটির নাম দেয়া হয় বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআর। রামগড় সদরে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা অফিস টিলা এলাকায় অবস্থিত ‘রাইফেলস স্মৃতিস্তম্ভে’ লেখা রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সেই গৌরবোজ্জ্বল জন্ম ইতিহাস।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার পর ২০১০-এর ৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন ২০১০’ পাস হওয়ার মাধ্যমে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বশেষ নামকরণ হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি। ঐ বছর ২০ ডিসেম্বর তারিখকে বিজিবি দিবস হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়।