অগ্নিদুর্ঘটনা বিষয়ে হেলাফেলা কাম্য নহে

সমপ্রতি পুরাতন ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ইহাতে নিহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলিয়াছেন, সরকার পুরাতন ঢাকাসহ ঢাকা মহানগরীতে কোনো রাসায়নিক গুদাম থাকিতে দেবে না। শুধু ঢাকা মহানগরীই নহে, দেশের কোনো আবাসিক এলাকায় রাসায়নিকের গুদাম স্থাপন করা যাইবে না। নিয়ম অনুযায়ী রাসায়নিকের গুদাম দূরবর্তী নিরাপদ স্থানে রাখিতে হইবে। অগ্নিকাণ্ডের উত্সমূলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও সার্বিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাদি দেখাশোনার জন্য যেইসকল কর্তৃপক্ষ রহিয়াছেন, তাহাদের অবশ্যই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হইবে। আবার শুধু কেমিক্যাল গুদামই নহে, অগ্নিকাণ্ডের অন্যান্য উত্স যেমন— গ্যাস-বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও দরকার বাড়তি সতর্কতা । বিশেষ করিয়া গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়িয়া তোলা একান্ত প্রয়োজন।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি খবরে বলা হইয়াছে, চাঁদপুরের মতলব উপজেলার শতাধিক দোকানে গ্যাস সিলিন্ডারের পাশাপাশি চলিতেছে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবসা। ফলে এক একটি দোকান যেন ভয়ঙ্কর বোমার মতো আতঙ্কের কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। সিলিন্ডারের পার্শ্বে দাহ্য পদার্থ রাখায় যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটিয়া যাইতে পারে। গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার ইতোমধ্যে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ছড়াইয়া পড়িয়াছে। কিন্তু যাহারা এই ধরনের ব্যবসা করিতেছেন জননিরাপত্তার স্বার্থে তাহাদের অবশ্যই আইন-কানুন ও নিয়ম-নীতি মানিয়া চলিতে হইবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি কার্যে ব্যবহূত সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রিতে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে। অথচ শুধু মতলব নহে, দেশের অন্যান্য এলাকায়ও একই অবস্থা বিরাজ করিতেছে। গত রবিবার ইত্তেফাকের এক সংবাদে বলা হইয়াছে যে, কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় সকল হাট-বাজারে পানের দোকান হইতে শুরু করিয়া জুতার দোকানে পর্যন্ত বিপজ্জনকভাবে বিক্রয় হইতেছে সিলিন্ডার গ্যাস। ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, মুদি দোকান, হার্ডওয়ার, ফাস্টফুড, কসমেটিক, তেল ও ফ্লেক্সিলোডের দোকানসহ হাইওয়ে রাস্তার পার্শ্বে, ফুটপাতে, গ্রামের রাস্তার মোড়ে মোড়ে এমনকি ফার্মেসি ও থান কাপড়ের দোকানেও অবাধে বিক্রয় হইতেছে গ্যাস সিলিন্ডার।

গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি পর্যায়ে এই ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধিকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু জননিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখিতে হইবে। যেহেতু ইহা ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ব্যবসা, তাই নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া বাঞ্ছনীয়। এই সিলিন্ডারগুলি যাহাতে যত্রতত্র সব দোকানের সম্মুখে বা ভিতরে খোলামেলা অবস্থায় ছড়াইয়া-ছিটাইয়া না থাকে এবং তাহার পার্শ্বে যাহাতে একইসঙ্গে কোনো দাহ্য পদার্থের ব্যবসা না করা হয় বা সেই ব্যবসা করা হইলেও যাহাতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সজাগ ও সক্রিয় হইতে হইবে। বিশেষ করিয়া এইসকল দোকানে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামাদি রাখিবার ব্যবস্থা করিতে হইবে এবং এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও ডিলারদের উদ্যোগ নিতে হইবে। সরকার এইক্ষেত্রে তদারকির পাশাপাশি নীতিগত সহায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হইতে পারে। বিষয়টি অতীব জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় আমরা এই ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।