চাটমোহরে ছুরিকাঘাতে যুবককে জখম

পাবনার চাটমোহরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে জখম হয়েছেন এক যুবক। শনিবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তাকে আহত অবস্থায় প্রথমে চাটমোহর এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 
 
আহত যুবক হলেন পৌর এলাকার নারিকেলপাড়া মহল্লার আবু তালেব প্রাং এর ছেলে জামিরুল ইসলাম (৩০)। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। 
 
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, জামিরুল চাটমোহর ডিগ্রী কলেজের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একই মহল্লার পচা প্রাং এর ছেলে নয়ন হোসেনসহ কয়েকজন তাকে ডেকে কলেজ মাঠে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে জামিরুলের ঘাড়ে ও পেটে ছুরিকাঘাত করে। জামিরুলে চিৎকারে লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। জামিরুলকে মুমূর্ষু অবস্থায় চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার নারী ভুঁড়ি বের হয়ে গেছে। ঘটনার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করেছে। 
 
আটককৃতরা হলেন- নারিকেলপাড়া মহল্লার জসিম উদ্দিনের ছেলে রাজু (২০), আ. মালেক প্রাং এর ছেলে ইজাজুল (৩৩) ও আফ্রাতপাড়া মহল্লার আলাউদ্দিনের ছেলে আলামিন হোসেন (১৮)। 
 
এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। এ বিষয়টি কেউ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিরোধ আবার কেউ পৌর নির্বাচনী বিরোধ বলে দাবি করেছে। দু’পক্ষই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে এলাকাবাসী জানান। 
 
আহত জামিরুলের বাবা তালেব বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী প্রফেসর আ. মান্নানের কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে। জামিরুল কাউন্সিলর প্রার্থী মো. নাজিম উদ্দিনের কর্মী বলে দাবি করা হয়। নয়ন গং ধানের শীষের কর্মী বলে একাধিক সূত্র জানায়। 
 
ঘটনার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান অভিযান পরিচালনা করে। সহকারী রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘনকারী কাউকে আর ছাড় দেয়া হবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। 
 
চাটমোহর ওসি সুব্রত সরকার জানান, অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করা হয়েছে।