সন্তানের ভালোর জন্য নিজে ভালো থাকুন

বাবা-মা সন্তানকে যেভাবে ভালোবাসেন। বাবা-মা ছাড়া পৃথিবীতে আর কেউ নেই যে বা যিনি এমন পরম আদর-যত্ন করতে পারেন বা করেন। এটি আমাদের কারো অজানা নয়। সন্তানকে সুখী রাখার জন্য তারা সবধরনের ত্যাগ তিতিক্ষা করতে রাজি এবং করেনও। উদাহরণ হিসেবে সম্রাট বাবর ও হুমায়ুনের কথা বলতে পারি, যে ঘটনাটি ইতিহাসের পাতায় আজও অমর হয়ে আছে। কবি ভারতচন্দ্রের মতো প্রত্যেক বাবা-মাই চায় তাদের সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে। বাবা-মা অসচ্ছল হলেও সন্তানের জন্য কিছু না কিছু রেখে যাওয়ার চেষ্টা করে। তারা চায়, নিজেদের চেয়ে যেন তাদের সন্তান ভালো থাকে। তারা সবসময় ধ্যান-জ্ঞানে, শয়নে ও স্বপ্নে সন্তানের কল্যাণের কথা চিন্তা করেন। তাদের ভাবনাজুড়ে শুধুই সন্তান আর সন্তান। সন্তানদের কথা চিন্তা করতে গিয়ে প্রায়ই সময় তারা বেমালুম  নিজেদের কথাই ভুলে যান। বাবা-মায়ের সুস্থতাও যে সন্তানের জন্য খুব দরকারি সেটি অনেক সময় তারা তা বুঝতে পারেন না, মাঝে মাঝে তাদের কাজকর্ম দেখলে মনে হয় তারা বুঝতেও চান না। নিজেদের কথা না ভেবে সন্তানের কথা ভেবে কাজ করতে গিয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেকের আবার টেনশন করার কারণে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায় অথবা কমে যায়। নিয়ম মাফিক খাদ্য গ্রহণ ও ব্যায়াম না করার জন্য কোলেস্টরল বেড়ে যায়, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। এগুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের রোগ-ব্যাধি তো আছেই, যেগুলোতে তারা হরহামেশাই আক্রান্ত হচ্ছেন। পিতা-মাতা অসুস্থ থাকলে সন্তানরা যে ভালো থাকতে পারে না সেটি তাদের বুঝা উচিত। অনেক সময় অনেক পিতা-মাতা যুক্তি দেখিয়ে বলেন, মনে করো আমরা বৃদ্ধ হয়ে গেছি। বৃদ্ধ বয়সে অসুস্থতার ভারে নুয়ে থাকবো এটাই স্বাভাবিক। এতে তোমাদের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। এ ক্ষেত্রে আমার কথা হলো প্রত্যেক বাবা-মায়ের একটি কথা খুব ভালো করে মনে রাখা উচিত, বয়োজনিত বৃদ্ধ হওয়া আর রোগে বৃদ্ধ হওয়া এক নয়।

বাবা-মায়ের অসুস্থতা সন্তানকে যে কতটা ডিপ্রেশনে ফেলে তা তাদের খুব ভালো করে উপলব্ধি করা উচিত। কেননা তাদের অসুস্থতা যে সন্তানের চিন্তার বড় কারণ, তা তারা উপলব্ধি না করতে পারলে খুব সহজে যে নিজেদের সম্পর্কে সচেতন হবে না, তা খুব সহজেই বুঝতে পারি। টাকা-পয়সা নয়, বাবা-মায়ের সুস্থতাই সন্তানের কাছে পরম সুখ। বাবা-মা পাশে থাকলে সন্তানের মনের জোর আরো বেড়ে যায়, নতুন উদ্যমে কাজ করে হাজারো প্রতিকূলতা ছিন্ন ভিন্ন করে খুব সহজেই সাফল্য ছিনিয়ে আনতে পারে। সন্তানের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে প্রত্যেক পিতা-মাতার নিজেদের ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত। প্রত্যেক পিতা-মাতাকে তাদের সন্তানের প্রতিনিধি হিসেবে আমি বলতে চাই, আপনারা আমাদের সুখের কথা চিন্তা করেও অন্তত নিজেদের ব্যাপারে সচেতন হোন। তামা, গুল, সিগারেটসহ সকল ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য ত্যাগ করুন, সুস্থতার জন্য পরিমিত আহার করুন, নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুমান, নিয়মমাফিক হাঁটুন। এটাই আপনাদের প্রতি আমাদের কামনা। বাবা-মা হচ্ছে সন্তানের জন্য সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ, এই আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত করবেন না আপনার সন্তানকে। প্রত্যেক সন্তানই নিজের প্রত্যেকটা সাফল্যে পিতা-মাতার মুখে তৃপ্তির হাসিটা দেখতে চায়। সন্তানের কথা ভেবে নিজেকে কি সুস্থ রাখতে পারবেন না?

পরিশেষে প্রত্যেক বাবা-মাকে এ কথাটি বলতে চাই, আপনারা নিজে ভালো থাকুন, আপনার সন্তানকে ভালো রাখুন। আব্বু- আম্মু তোমরা দুজনেই একটি কথা স্মরণ রাখবে নিজেদের কথা ভাবা সবসময় স্বার্থপরতা নয় বরং অনেক সময় এটা দূরদর্শিতার পরিচয়।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।