ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে সংঘর্ষ হচ্ছে। প্রচারণাকে ঘিরে একপক্ষ অন্যপক্ষের উপর হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে। ক্ষমতাসীনদের বিধি লংঘনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে কমিশন। এরপরও সোমবার বিকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান ও বিদ্রোহী প্রার্থী এনাম পাটোয়ারীর মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। দুপুর ১২টার দিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর আরামনগরে বিএনপি প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হন। শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর মিছিল থেকে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। দুপুর ১টার দিকে পালং মডেল থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর প্রদীপ মজুমদারকে পিটিয়ে আহত করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ছেলেসহ সমর্থকরা। গত রবিবার নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় পাঁচজন আহত হন। এভাবে মাঠ পর্যায়ে একের পর এক ঘটনা ঘটলেও মাঠ প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং ইসিতে পাঠানো প্রতিবেদনে তারা বলছেন, পরিস্থিতি ভালো, এ ধরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাঠ প্রশাসনের এই আচরণ ক্ষুব্ধ ইসি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনিয়মের দায়ে সাতক্ষীরার কলারোয়ার রিটার্নিং অফিসারকে প্রত্যাহার করে তাকে বরখাস্ত করেছে কমিশন। চাঁদপুরের মতলব উত্তর, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, মাদারীপুরের কালকিনি থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, নোয়াখালীর হাতিয়া, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের ওসির বিরুদ্ধে রিটার্রিং অফিসারদের তদন্ত করে ইসিতে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, রাঙ্গামাটি থানার ওসি, চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ ওসি এবং ওসি তদন্ত, নরসিংদীর মাধবদির পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ এসেছে।