দেশে প্রথমবারের মতো দলভিত্তিক মেয়র পদের পৌর নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন সারাদেশের ২৩৩টি পৌরসভার ৩ হাজার ৪০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ১২’শ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যা মোট ভোট কেন্দ্রের প্রায় ৩৫ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোই বেশী ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকার ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের আগে থেকে নির্বাচনের পরেও সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করার পাশাপাশি ভোট গ্রহণের দিনসহ আগে পরে দুই দিন করে মোট পাঁচ দিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
দেশে ২৩৪টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ফেনীর পরশুরাম পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী থাকায় ৩০ ডিসেম্বর ২৩৩টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ছয়টি পৌরসভায় একক প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ২৩৩ পৌরসভায় মেয়র পদে ৯২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈলের নির্বাচন আবার স্থগিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীর বাড়ির সংলগ্ন ছাড়াও বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশী সমর্থক আছে এমন কেন্দ্রকে। রাজনৈতিক দলের বিবেচনায় দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীরাই নির্বাচন কমিশনের খাতায় ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি টহল টিম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আছে ইসির। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ছয়জন অস্ত্রধারী পুলিশসহ মোট ২০ সদস্যের বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়ন (এপিবিএন) সমন্বয়ে ভ্রাম্যমান ও অপেক্ষমান বাহিনীর কাজ করার কথা বলা হয়েছে গত শনিবার ইসির সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বৈঠকে।
বিভাগভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আছে খুলনা বিভাগে। এই বিভাগের ৪৭১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯৫টিই ঝুঁকিপূর্ণ। এরপরই রংপুর বিভাগের অবস্থান। এই বিভাগের ৩০৪ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকা বিভাগে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৯৯১টির মধ্যে ৩৪৮টি। রাজশাহী বিভাগের ৮০১টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২৪৬টি। সিলেট বিভাগের ১৮৯ কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৪৫টি। বরিশাল বিভাগের ১৬৭ কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৬৩টি; আর চট্টগ্রাম বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৮০ মধ্যে ১৬৮টি। ভোট গ্রহনের দিন ভোটারদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৌরসভা ভিত্তিক ঝুঁকিপহূর্ন কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করেছে কমিশন।