দেখতে না দেখতেই চলে এলো ‘ক্রিসমাস বা বড়দিন’। সান্তাক্লজের হৈ হুল্লোড় আর উপহারের অপেক্ষায় রয়েছে শিশুরা। তেমনি বড়রাও এদিনের হরেক রকম প্রস্তুতিতে মেতে রয়েছেন। ঘর গোছানো, উপহার কেনা, নিমন্ত্রণ, কেনাকাটা সবকিছু নিয়েই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় দিন কাটছে উৎসবমুখর মানুষের। বড়দিনের বর্ণিল সাজগোজ নিয়েই আজকের এই প্রতিবেদন।
ঘর গোছনোর শুরুতেই মাথায় রাখতে হবে বাড়িকে কতটা জমকালো ও রঙিন করে তোলা যায়। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে উৎসবটি খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের হওয়ায় এর সাজসজ্জায় কিছুটা হলেও যেন পশ্চিমা ভাবটি বজায় থাকে। এই ধরুন, বেলুন, গ্লসি টাইপের লাল, নীল, হলুদসহ বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙের কাগজ দিয়ে নানাভাবে সাজানো যেতে পারে ঘরকে। অনেকটা র্যাপিং পেপারের মতো দেখতে এ কাগজকে বলা হয় রাঙতা। এগুলো কেটে কেটে বিভিন্ন আকৃতির নকশা করে ঘরের দেয়ালে ঝোলানো ও লাগানো যেতে পারে। তবে কাটাকুটির ঝামেলা নিতে না চাইলে রেডিমেডও কিনে আনতে পারেন এগুলো।
IMG0
তবে এই উৎসব উপলক্ষে পুরো বাড়ির যেদিকেই আপনি সাজান না কেন, কোনো লাভ নেই, যদি না ড্রইংরুম ও ডাইনিং রুমকে চিত্তাকর্ষক ও মনোরম করে না সাজান। এজন্য রংবেরঙের বেলুন, টিস্যু, নেট ও টকটকে লাল গোলাপ ফুল দিয়ে মনের মতো করে সাজিয়ে ফেলুন ড্রইং ও ডাইনিং রুমকে।
মনে রাখবেন, এখন যেহেতু বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে অন্য ধর্মের শিশুরাও বেড়াতে আসে, সেহেতু তাদের কথা মাথায় রেখেও ঘরগুলোকে শিশুদের চোখে ভালো লাগে, এমন করে উপস্থাপন করুন। ড্রংইরুমের পর্দাগুলো খোলা, পাল্টানোকে ঝামেলা এড়াতে চাইলে কিংবা নতুন পর্দা কিনতে না চাইলে একটু বুদ্ধি খাটান। যেমন ধরুন, ড্রইংরুমে থাকা পর্দাগুলোর মধ্যেই কিছু লেসের পর্দা, নেটের পর্দা, নেটের শাড়ি বা এ ধরনের কাপড় দিয়ে ঢেউ ঢেউ করে পর্দার উপরে পেলমেট করে ফেলুন। তাহলে বোঝারই উপায় নেই এটি পুরনো।
IMG1
এ ছাড়াও বড়দিনে বাড়তি সাজ উপকরণ হিসেবে থাকে ক্রিসমাস ট্রি। লাল নীল বাতি জ্বলা ক্রিসমাস ট্রিগুলো পেয়ে যাবেন পুরান ঢাকার চকবাজারে। ২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পড়বে এই গাছগুলোর দাম। তবে ক্রিসমাস ট্রির দাম নির্ভর করে এর আকারের ওপর।
বড়দিনে ঘরে আলোকসজ্জা থাকবে না তা কি হয়? সে কারণেই বাতির দোকানেও বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে ঝাড়বাতি কিনেছেন। আবার অনেকে ছোট ছোট মরিচবাতি দিয়ে সাজাচ্ছেন। এক হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করতে পারবেন। এতে করে যারা বেড়াতে আসবে, তারা শুরুতেই এমন আপ্যায়ন দেখে খুশি হবে।
IMG2
উপহারের উৎসব বলা হয় বড়দিনকে। সাদা দাড়ির সান্তাক্লজও বর্ণিল উপহারের জন্য শিশুদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়। উপহার হিসেবে ঘণ্টা, মগ, ছবির ফ্রেম, চাবির রিং, ম্যাজিক বক্স, পার্টি স্প্রে, বেলুন, শিশুদের বিভিন্ন খেলনা, পুতুল, ডেকোরেশন পিস বেশ পরিচিত। তবে শুভেচ্ছা বার্তা দেয়ার জন্য কার্ড আর চকোলেটই এবার বেশি পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে বলে এক বিক্রেতা জানান । ৫০ থেকে ১৫শ’ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন এসব উপহার।