পাকিস্তানী পেসার মোহাম্মদ আমিরের জন্য হয়ত দারুন একটি সুখবর অপেক্ষা করছে। জাতীয় দলের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন বিশ্বজুড়ে আলোচিত, সমালোচিত এই তরুন পেসার।
এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে খোদ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে। পিসিবি কর্তৃক ইস্যুকৃত এক সংবাদ বিবৃতিতে আমিরের জাতীয় দলে ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তার সাম্প্রতিক পারফরমেন্স ও আচরণই পিসিবিকে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছয় মাসের পরীক্ষামূলক সময়ে আমি সাফল্যের সাথে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগেও সে ভাল করেছে। এ কারণেই জাতীয় দলের ফিটনেস ক্যাম্পে তাকে ডাকা হয় যেখানে সে দীর্ঘদিন পরে অন্যান্য খেলোয়াড়দের সাথে মানিয়ে নেবার সুযোগ পেয়েছে। জাতীয় দলের জন্য সে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করেছে। এখন সবকিছুই নির্ভর করছে নির্বাচকদের ওপর।
পিসিবি আরো জানিয়েছে স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আমির তার পুনর্বাসন সময়টাও বেশ ভালভাবেই পার করেছে। এই সময়ে আমিরের সার্বিক দিক নিয়ে পিসিবি সন্তুষ্ট। এখানে আরেকটি বিষয় বিবেচ্য যে স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত হবার প্রথম দিন থেকেই আমির তার দোষ স্বীকার করে নিয়ে দেশের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। একইসাথে আইসিসি এন্টি করাপশন ইউনিট ও বৃটিশ পুলিশ তদন্ত সংস্থাকে সে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে।
এখানে উল্লেখ্য, যে ঘটনাটির সময় আমিরের বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। পাকিস্তানের একেবারে নিভৃত একটি গ্রাম থেকে সে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিল।
এদিকে জানা গেছে সম্প্রতি পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান স্বয়ং আমিরকে ডেকে নিয়ে আচরণ ও শৃঙ্খলার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছে। পাকিস্তানী তরুণ খেলোয়াড়দের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত আমিরও এ ব্যাপারে নিজের যথাসাধ্য দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
একই সঙ্গে পিসিবি অবশ্য স্বীকার করেছে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ও ধারাভাষ্যকার আমিরের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে বেশ কয়েকজন সাবেক খেলোয়াড় ও সমালোচক বিশ্বাস করেন, যে সাজা এই তিনজন খেলোয়াড় পেয়েছে সেটাই যথেষ্ট। এখন তাদের দ্বিতীয়বার সুযোগ দেবার সময় এসেছে।
জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরকে সামনে রেখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক কন্ডিশনিং ক্যাম্পে অবশ্য শুধুমাত্র আমিরকেই ডাকা হয়েছে। বাট ও আসিফকে জানুয়ারি থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অনুমতি দিয়েছে পিসিবি। বাসস।