চট্টগ্রাম মগহানগরীর এক নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমানবাজারে শনিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত টানা অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক কমান্ডারের আস্তানার সন্ধান পায় মহানগরী গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি অত্যাধুনিক স্নাইপার রাইফেল, বিপুল পরিমাণ গুলি, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ডেটোনেটর, বিপুল সংখ্যক সামরিক বাহিনীর কমব্যাট পোশাক, সামরিক বাহিনীর মেজর র্যাঙ্কের একটি বেজসহ নানা ধরনের গোপন নথিপত্র উদ্ধার করেছে। গ্রেফতার করেছে জেএমবি’র ৩ সদস্যকে।
মহানগরী পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য ইত্তেফাককে বলেন স্নাইপার রাইফেলের মতো মারাত্মক অস্ত্র সম্ভবত এই প্রথম উদ্ধার করা হলো।
এই অভিযানে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন মহানগরী গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আক্তার।
তিনি ইত্তেফাককে জানান, সেখান থেকে একটি এমকে-১১ স্নাইপার রাইফেল, ২৫০ রাউন্ড গুলি, ২ কেজি জেল বিস্ফোরক, ১০টি ডেটোনেটর, বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪টি পোশাক, নেমপ্লেট ও বেইজ র্যাংক, এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন নথিপত্র পাওয়া যায়। এসময় আটককৃত জেএমবি সদস্যরা হলেন- নয়ন, রাসেল ও ফয়সাল। এদের বয়স ২৪ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে।
পুুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাায়, গোপন সূত্রে জেএমবির বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক কমান্ডার ফারদিন বা পিয়াসের আস্তানার তথ্য নিশ্চিত হয়ে শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে আমানবাজারের জয়নব কমিউনিটি সেন্টারের পেছনে অবস্থান নেয় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। মহানগরী গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনাকারী টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলের ‘হাজী ইসহাক ম্যানশন’ নামের একটি দোতলা বাড়ি ঘিরে ফেলে। বাড়ির নিচতলায় জেএমবি কমান্ডার ফারদিনের ভাড়া নেয়া বাসায় অভিযান চালায়। এলাকাটি নগরীর ১নং পাহাড়তলী এলাকায় পড়লেও এটি জেলা পুলিশের হাটহাজারী থানার নিয়ন্ত্রণাধীন।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার বাবুল আক্তার জানান, আগে কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ের খোয়াজনগর থেকে যে ৫ জেএমবি সদস্যকে আটক করা হয়েছিল, জিজ্ঞাসাবাদে তারা সামরিক কমান্ডার ফারদিনের আস্তানা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিল। অভিযানকালে আস্তানার ভেতর জেএমবি সদস্য রাসেলকে পাওয়া যায়। পরে নয়ন ও ফয়সালকে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়। অভিযান শেষ হয় ভোর ৫টায়। আটক জেএমবি সদস্যদের মহানগরী গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য এবং নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার কুসুম দেওয়ান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মোস্তাফিজুর রহমানের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সকালে হাটহাজারি থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ আমান বাজারের জেএমবি আস্তানা ইসহাক ম্যানশন ঘেরাও করে রাখে। জেএমবি কমান্ডার ফারদিনের সন্ধান জলছে।