গফরগাঁওয়ে সরব আওয়ামী লীগ, ‘নিসঃঙ্গ’ বিএনপি প্রার্থী

 
ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর হাজারো নেতা-কর্মীর সরব প্রচার-প্রচারণার বিপরীতে একবারেই ‘নিসঃঙ্গ’ বিএনপি দলীয় প্রার্থীর প্রচারণা নেই বললেই চলে। তবে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ড ও তিনটি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে।
 
পৌর নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ইকবাল হোসেন সুমনকে বিজয়ী করতে একাট্টা গফরগাঁও উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামী লীগ। নৌকা মার্কা প্রতীকের পক্ষে শেষ মূহুর্তের প্রচারণায় সরব উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের হাজারো নেতাকর্মী। তাদের প্রচারণায় নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এমপি ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল ও উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং পৌর আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইকবাল হোসেন সুমনকে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে দলে জন্য ‘স্বস্তি’ মনে করছেন পৌর এলাকার আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা ছিল মনোনয়ন অন্য দিকে গেলে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ‘প্রত্যাশিত’ প্রার্থী ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের মনোনয়নপ্রাপ্তির মাধ্যমে বহু ধারায় বিভক্ত গফরগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের যে দলীয় কোন্দলের অবসান হয়েছিল তা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠত।
 
ইকবাল হোসেন সুমন বলেন, গত পৌর নির্বাচনের পর থেকেই পৌরবাসীর সাথে রয়েছি এবং দলীয় আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছেন পৌরসভার ভোটারার তাকে মূল্যায়ন করবে।
 
‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়েও নির্বাচনী প্রচারণায় ‘নিঃসঙ্গ’ গফরগাঁও পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী  ও সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্রচার-প্রচারণার জন্য নির্ধারিত ২০দিনের মধ্যে ১৯দিনই চলে গেলেও নির্বাচনী মাঠে নেই উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল কিংবা শ্রমিকদলসহ সহযোগী সংগঠনের কোন নেতাকর্মী। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পরিবারের লোকজন ও আত্বীয়স্বজনরা নিজেদের উদ্যোগে নির্বাচনী প্রচারণায়ও অংশ নিচ্ছে না। কিছু পোস্টার টানানো, দুই/তিনদিন মাইকিং ও পৌর শহরের শিবগঞ্জ রোড এলাকায় নিজ বাসা থেকে উপজেলা বিএনপি কার্যালয় এলাকা এই ১০০ গজের মধ্যে প্রচারণায় দেখা গেছে বিএনপি দলীয় প্রার্থীকে। বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুনের বড় ভাই শাহ আব্দুল মতিন পৌর নির্বাচনে ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। তার পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়স্বজন কাউন্সিলর পদের প্রচারণা নিয়েই ব্যস্ত।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাসা থেকে মূলত কাউন্সিলর পদের নির্বাচন পরিচালনা হচ্ছে। উপজেলা বিএনপি ও পৌরসভা বিএনপির কার্যালয়টি দুই বছর ধরে তালাবন্ধ। পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষেও কার্যালয়টির তালা খোলা হয়নি। ফলে ‘ধানের শীষ’ মার্কা প্রতীকের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হতে পারছে না। পৌর বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রচারণার বেহাল অবস্থার কারণে ভোটের দিন অধিকাংশ কেন্দ্রে ধানের শীষ মার্কার পক্ষ থেকে এজেন্ট দিতে পারবে না, ধানের শীষ মার্কার ভোটারাও হয়তো ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি কম হবে।।
 
এ ব্যাপারে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিবাচর্নী প্রচার-প্রচারণায় নেতাকর্মীদের নামানোর দায়িত্ব উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের। আমি একা মানুষ কি করব।
 
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ ইছহাক বলেন, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সরকারি দলের কোন বাধা না থাকলেও মামলা-হামলার ভয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে নামছে না।