চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত সাব্বির

বড় বড় ছক্কা মেরে দর্শকের মন অনেক আগেই জয় করেছেন। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অন্যতম সেরা বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান রুম্মন। এবার টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকার বিবেচনায় ২০১৫ সালের সেরা ৫টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসের একটির মালিক হয়েছেন সাব্বির। ছক্কার মতোই পরিষ্কার ও নির্ভেজাল তার কথাবার্তা। ফোনে খবরটা পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করলেন, পাশাপাশি বড় বড় ছক্কা মারার রহস্যটাও একটু বলে দিলেন। এই মারকুটে ব্যাটসম্যানের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়—
 
সাব্বির, আপনাদের তো একটা শোকের সময় কাটছে।
 
হ্যাঁ, নানী মারা গেলেন। বাড়ির সবার জন্যই এটা খুব কষ্টের ব্যাপার ছিলো। উনি সবাইকে খুব আদর করতেন।
 
এর মধ্যে একটা সুখবর কী শুনেছেন?
 
হ্যাঁ, কোথায় যেনো দেখলাম। কারা নাকি টি-টোয়েন্টির এ বছরের সেরা ইনিংসের একটা বলেছে আমার পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংসটাকে।
 
টাইমস অব ইন্ডিয়া এই নির্বাচনটা করেছে। তাদের মতে ২০১৫ সালের সেরা ৫টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসের একটি আপনার ওই ফিফটিটা। এই ব্যাপারটা আপনার কাছে কতো বড় ব্যাপার?
 
খবরটা তো নিশ্চয়ই বড়। কোনো একটা কর্তৃপক্ষ আমার ওই ইনিংসটাকে সেরা ইনিংসগুলোর একটা ভেবেছে। আর কিছু না হোক, এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা অনুপ্রেরণা। হয়তো কোনো পুরস্কার এটা নয়। তবে আমি এটা অন্তত বুঝতে পারলাম যে, আমার বিশ্বমানের ইনিংস খেলার ক্ষমতা আছে। এই বোঝাটাও অনেক বড় পাওয়া।
 
ইনিংসটার কথা মনে করতে পারেন?
 
হ্যাঁ, ভালো করে মনে করতে পারি। আমার মোবাইলে ওটার ভিডিও আছে। মন খারাপ থাকলে, রান না পেলেই ওটা চালিয়ে দেখি। একটা কথা বলতে পারি, প্রতিটা শট করার সময় আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমার মনে হচ্ছিলো, আমি প্রত্যেকটা বল বাউন্ডারি ক্লিয়ার করবো।
 
যে সময় উইকেটে গিয়েছিলেন, তখন তো দল একটু চাপেই ছিলো। মনে আছে, তখন চিন্তাটা কী ছিলো?
 
আমি যখন উইকেটে গেছি, তখন কম রানেই (৩৮ রানে) ৩ উইকেট পড়ে গিয়েছিলো। সাকিব ভাই উইকেটে ছিলেন। আমি শুধু ভাবছিলাম, সাকিব ভাইকে সাপোর্ট দিতে হবে। আমি থাকলে উনি ম্যাচ বের করে ফেলতে পারবেন। সাকিব ভাই বললেন, ‘তুই তোর খেলাটা খেল।’
 
সাকিবের সাথে আপনার আরো কিছু জুটি আছে। বিশ্বকাপে বা দেশে ভারতের বিপক্ষে। তার সঙ্গটা বেশ উপভোগ করেন মনে হয়?
 
হ্যাঁ। আমি সবার সাথে ব্যাট করেই আনন্দ পাই। তবে ওনার সাথে আগেও খেলেছি তো। প্রিমিয়ারে আমরা একই দলে খেলেছি। আর উনি আমাকে খুব সাপোর্ট করেন। সবসময় বলেন—নিজের মতো খেলবি।
 
এবার একটু ‘বাউন্ডারি ক্লিয়ার’ নিয়ে বলেন। মাঝে মাঝেই বল গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেন। আপনাকে দেখলে তো গেইলের মতো শক্তিশালী মনে হয় না। কিন্তু বল এতো দূরে পাঠিয়ে দেন কী করে?
 
হা হা হা...। এটা আসলে কনফিডেন্সের ব্যাপার। যখন আপনি উইকেটে সেট হয়ে যাবেন, সব নিজের মতো হতে, তখন মনে হয় বল চাইলে স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠাতে পারবো। এই সময়গুলোতে শক্তি আসলে ব্যাপার না। এরকম সময়ে আমার মনে হয়, প্রত্যেকটা বল আমি গ্যালারির পেছনে পাঠাতে পারবো। কেন পারবো না!
 
সত্তর গজ পার করলেই ছক্কা। তারপরও এই যে বিপুল বিক্রমে পেটানো, এটা কী বোলারকে ডমিনেট করতে কাজে লাগে?
 
অবশ্যই। বোলার আপনাকে একটা বাউন্সার দেবে বা কিছু একটা ভালো বল করে আপনাকে ডমিনেট করতে চাইবে। সেটা তো করতে দেয়া যাবে না। আপনাকে বড় ছক্কা মেরে বুঝিয়ে দিতে হবে, আপনিই ডমিনেট করতে চান। খেলাটা তো মনেরও। বোলারকে মাথায় চড়তে দেয়া যাবে না। বল দূরে পাঠালে আমার মনে হয়, বোলার একটু বেশি শকড হয়।
 
বিপিএলেও এরকম কয়েকটা ছক্কা দেখলাম আমরা। শুরুর দিকে লম্বা সময় ধরে রান না পাওয়ার পর নকআউট পর্বে এসে এমন রান পাওয়াটা নিশ্চয়ই আনন্দের ছিলো?
 
খুব। আরো আগে থেকে রান পেলে ভালো লাগতো। দলের আরো উপকার হতো। তারপরও ঠিক যখন দরকার, সেই সময় এসে রান পেয়েছি, এটা খুব ভালো লেগেছে।
 
এই যে বিপিএলে টানা অনেকগুলো ম্যাচে রান পাচ্ছিলেন না; আত্মবিশ্বাসটা ধরে রাখছিলেন কী করে?
 
আমি জানতাম, আমি রান পাবো। প্রতিদিন নিজেকে বলতাম, আমি কী কোনো ভুল করছি? আমি কী কোনো অন্যায় করছি? নেটে তো সব ঠিকঠাক করছি, পরিশ্রম করছি, উইকেটে গিয়ে চেষ্টা করছি; তাহলে রান পাবো না কেনো? আমি নিজে চেষ্টা করলে একসময় না একসময় ফল পাবোই। আর একটা বড় ব্যাপার রিয়াদ ভাই খুব সাপোর্ট দিয়েছেন।
 
সেটা একটু বলবেন?
 
উনি বলতেন, ‘রুম্মন, তুই শুধু ফিল্ডিং করলেই হবে। তোর রানের দরকার নেই। রান নিয়ে ভাবিস না।’ এই কথাগুলো আমার খুব কাজে লেগেছে।
 
একটু সামনে তাকানো যাক। এখন সামনে তিন-চার মাস টানা টি-টোয়েন্টি। আপনি কী চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত?
 
আমি কখনো কোনো লক্ষ্য ঠিক করি না। তবে চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। আমি জানি, এই ফরম্যাটটা আমার খেলা। এখন অনেক খেলা আছে। আমাকে ভালো করতে হবে। সেটা করতে আমি তৈরি।
 
সাব্বির কী টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট হয়েই থাকবেন? টেস্ট নিয়ে স্বপ্ন নেই!
 
অবশ্যই আছে। আগে তো শুধু টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টই ছিলাম। পরে ওয়ানডেতেও তো কিছু ভালো করেছি। লংগার ভার্সনে সুযোগ পেলে চেষ্টা করি ভালো ইনিংস খেলার। যদি কখনো টেস্টে সুযোগ পাই, অবশ্যই ভালো করবো।