অভিজ্ঞদেরও বিবেচনায় রাখছেন নির্বাচকরা

বাংলাদেশে প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করাটা এখনও খুব কঠিন কোনো ব্যাপার নয়। ২৫ বা ২৭ সদস্যের একটা দলে বিবেচনায় থাকা সবাইকেই সুযোগ করে দিতে পারেন নির্বাচকরা। 
 
আগামী দুই একদিনের মধ্যে এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ সামনে রেখে এমন একটা প্রাথমিক দল ঘোষণা করে ফেলবেন জাতীয় দল নির্বাচক কমিটি। তবে প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ বলছেন, চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময়ও তারা তারুণ্যের পাশাপাশি অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে চান।
 
দল ঘোষণা করা সম্পর্কে গতকাল ফারুক বলছিলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক স্কোয়াড তৈরি করে ফেলেছি। এটা ২-১ দিনের মধ্যে বোর্ডে জমা দিয়ে দেবো। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে জাতীয় দলের ক্যাম্প। প্রথমে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। এরপর স্কিল অনুশীলন শুরু হবে। ২-১ দিনের মধ্যেই দলটা ঘোষণা হয়ে যাবে।’
 
দল ঘোষণার সময় তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণ ঘটানো প্রসঙ্গে সাবেক এই অধিনায়ক বলছিলেন, আমরা সব সময় চেষ্টা করি বাংলাদেশের সম্ভাব্য সেরা একটি দল খুঁজে বের করতে। যারা হয়তো সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশ দলে খেলেনি। কিন্তু খুব ভালো পারফরম্যান্স করেছে এবং মনে করি দলে তাকে প্রয়োজন আছে। এবং সুযোগ দিলে সে আরো ভালো কিছু করতে পারে। এইসব কিছুই বিবেচনায় ছিল। ২-১ তরুণ তারকা আমাদের চোখে পড়েছে। ওদের আমরা মনে করেছি এই পরিবেশে তারা কেমন করে সেটাও দেখবো আমরা। ক্রিকেট এমন একটি খেলা; ব্যাটসম্যানদের ফর্মের বাইরে চলে যাওয়া খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা। আমরা আসলে নির্দিষ্ট কোনো টুর্নামেন্ট থেকে কিছু চিন্তা করি না। আমাদের সব সময় মাথায় থাকে নির্দিষ্ট একটা সময় একটা ছেলে কেমন করছে। এইসব দিক চিন্তা করে আমরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভালো করতে পারে তাদের নিয়ে প্রাথমিক একটি দল তৈরি করেছি। যার সংখ্যাটা হবে ২৫ থেকে ২৭ এর মতো। পরবর্তীতে আমরা যে টুর্নামেন্টটা খেলবো এখান থেকে সেটা বের করে নিবো।
 
ফারুকদের দল নির্বাচন ছাড়াও আসছে বছরের জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তি নিয়েও কাজ করতে হচ্ছে। সেই চুক্তির গ্রেডিং সম্পর্কে ফারুক বলছিলেন, ‘কত বছরের আগের বছর একটা গ্রেডিং করা হয়েছিল। এবার আমরা কারেন্ট পারফরম্যান্স দেখবো। এছাড়া নতুন অনেক ছেলে এসেছে যারা জাতীয় লিগ খেলেছে। এরপর আমাদের যে লিস্টটা সরবরাহ করা হয়েছিল সেটা দেখে আমরা কিছু গ্রেডিং পরিবর্তন করেছি। কিন্তু সংযোজন করেছি। খুব শীঘ্রই এটা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। আসলে আমরা কাজ করি বোর্ডের নির্দেশে। আমাদের বলা হয়েছে খেলোয়াড়দের গ্রেডিং সমেত একটা তালিকা প্রস্তুত করতে। সেটা আমরা করছি।’
 
এ বছর গ্রেডিং আগের মতো ৫টি থাকলেও চুক্তিতে খেলোয়াড় বাড়ছেন একজন। অন্তত তেমনই ধারণা দিল ফারুক, আমার মনে হয় আগের মতো ৫টি গ্রেডই থাকবে। হয়তো যারা ভালো খেলছে তাদের গ্রেডটা উন্নতি হবে। প্রতিবছরই এটা করতে হয়। আমরা চিন্তা করি ২-১ ছেলে হয়তো থাকার মতো নয়। কিংবা ২-৩ আবার নতুন করে যোগ হয়। গত বছর ১৪ জন ছিল। এ বছর হয়তো একজন বাড়তে পারে।