গাংনী পৌরসভা নির্বচনে মেয়র পদে ত্রিমুখী যুদ্ধ

মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভা নির্বাচনী হাওয়া এখন তুঙ্গে। এই পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের এক প্রার্থী আহম্মদ আলি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র্য প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম এবং বিএনপির একক প্রার্থী ইনসারুল হকের মধ্যে ত্রিমুখী ভোট যুদ্ধ হবে। কাকডাকা ভোর থেকে  পাড়ায় মহল্লায় চলছে প্রচার প্রচারণা। মা-বোনদের দোয়া নিতে বাড়ি যাচ্ছেন সব রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীরা। ভোটাররা চাচ্ছেন সৎ , নিষ্ঠাবান এবং যোগ্যব্যক্তি মেয়র নির্বাচন করার জন্য। ভোটাররা গাংনী পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পূর্ণাঙ্গ পৌরসভা করতে আগ্রহী।
 
গাংনী পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন ৫ জন। এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আহমদ আলি (নৌকা), বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ইনসারুল হক ইন্সু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মর্তুজা আলম বুলবুল ও ইসলামী আন্দোলন থেকে হুজ্জাতুল ইসলাম এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নামে প্রচারিত স্বতন্ত্র্য প্রার্থী জেলা যুব লীগের সদস্য আশরাফুল ইসলাম ভান্ডারী।  
 
এদিকে, গাংনীতে ভ্রাম্যমান আদালতের টিমের গাড়ি পাড়া-মহল্লায় ঘুরছে। তদারকি করছেন প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ হচ্ছে কিনা। ইতিমধ্যে ভ্রামমান আদালত প্রার্থীদের আচারণ বিধি লংঘনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আহম্মদ আলির ( নৌকা) ৫ হাজার টাকা, বিএনপি প্রার্থী ইনসারুল হকের ( ধানের শীর্ষ) ৫ হাজার টাকা ও স্বতন্ত্র্য প্রার্থী আশরাফুলের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। 
 
জেলা নির্বাচন অফিসার ও গাংনী পৌরসভা রিটার্নিং অফিসার রোকনুজ্জামান স্থানীয় সংবাদিকদের জানিয়েছেন, গাংনী পৌরসভার ৯টি ভোট কেন্দ্র আছে। ৯টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। ৫টি অতিঝুঁকিপূর্ণ ও ৪টি কমঝুঁকি পূর্ণ। ভোট কক্ষের সংখ্যা  ৫৮টি। মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৫শ ৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ৫শ ৫২ জন ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ৫ জন।
 
ভোটাররা জানান, এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী আহম্মদ আলির সাথে স্বতন্ত্র্য প্রার্থী জেলা আওয়ামী যুব লীগের সদস্য আশরাফুল ইসলাম ভান্ডারীর সাথে ভোটযুদ্ধ হবে। বিএনপি প্রার্থীর ব্যাপকভাবে নির্বাচনী  প্রচারণা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগের দু’জন প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি প্রার্থী জয় লাভ করতে পারে। 
 
জাতীয় পার্টি ( এরশাদ) প্রার্থী মর্তুজা আলম বুলবুল ও ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী হুজ্জাতুল ইসলামকে নির্বাচনী প্রচারের মাঠে দেখা যায়নি। তবে সকল ভোটাররা সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।