গতকাল সকাল পৌনে ১০টা। শহীদুল্লাহ হলের সামনে লম্বা লাইন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে লাইনে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন ভোটাররা। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রিশাদ হাসান বলেন, দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ব্যথা হয়ে গেছে। একই জায়গায় দেড় ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। সময় গড়ায়, কিন্তু লাইন সামনে এগোয় না। অনেক ভোটারকে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, বিজয় একাত্তর হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, কবি জসীম উদ্?দীন হল, জগন্নাথ হলের সামনে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ভোট দিতে পারেননি অনেক শিক্ষার্থী।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হলেও এ নির্বাচন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। নানা অব্যবস্থাপনা মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এ নির্বাচন। ভোটে অনিয়মের অভিযোগ এনে ছাত্রলীগ বাদে সবাই ভোট বর্জন করেছে এবং পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার ৩ জন শিক্ষার্থী ডাকসু নির্বাচনে ভোটার ছিলেন। প্রত্যেক ভোটারকে মোট ৩৮টি ভোট প্রদান করতে হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ২৫ জন প্রার্থীকে এবং হল সংসদের ১৩ জন প্রার্থীকে ভোট প্রদান করতে হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, শেষ হয় বিকাল ২টায়। তবে দুটি ছাত্রী হলে অনিয়মের অভিযোগে দুই দফায় ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের পর ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। একসঙ্গে এতোগুলো ভোট গ্রহণে দীর্ঘ সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনে দায়িত্ব পালরত কয়েকজন শিক্ষক। তাদের মতে, ভোটের সময় আরো বাড়ানো উচিত ছিল।
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার ধীর গতির কারণে বাইরে ভোটারদের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে দেখা গেছে বিরক্তির ছাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনেকে ভোট না দিয়েও ফিরেছেন। বিশেষ করে, আবাসিক হলের বাইরে থাকা অনেক শিক্ষার্থী ভোট প্রদান করতে পারেননি।
নির্বাচনের আগে অংশগ্রহণকারী প্যানেলের মধ্যে ছাত্রলীগ বাদে অন্যান্য প্রার্থীরা ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর দাবি জানালেও তা আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ। গতকাল ছাত্রলীগের বাইরে অন্য প্যানেলের একাধিক প্রার্থীর অভিযোগ, ইচ্ছে করে ভোটে সময় বেশি নেওয়া হয়েছে। যাতে অনেক ভোটার ভোট না দিয়ে চলে যান বা যারা এখনো ভোট দিতে আসেননি, তারা যেন আগ্রহ হারিয়ে ভোট দিতে না আসেন।