মাটিরাঙ্গায় বিএনপি’র মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলা

পৌরসভা নির্বাচনে মাটিরাঙ্গার একটি কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী বাদশা মিয়া। সন্ত্রাসীরা কেন্দ্রের একটি বুথ থেকে তিনটি ব্যালট পেপার বইও ছিনতাই করার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। 
 
এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসাধাচরণের অভিযোগে ওই কেন্দ্রের পোলিং অফিসার মো. সেলিমকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়।
 
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার মাটিরাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ নম্বর কেন্দ্রে হঠাৎ করে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কেন্দ্রটি পরিদর্শনে এসে ওই হামলার শিকার হন। এ ঘটনার পরই র‌্যাব, পুলিশের বিশেষ দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনায়েত মান্নান, নির্বাহি ম্যাজিষ্টেট মো: ইকবাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। 
 
বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী বাদশা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, 'কেন্দ্রে এসে একটি বুথে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বিএনপির পোলিং এজেন্ট জয়নাল আবেদীনকে বুথ থেকে বের করে দিয়ে ব্যালট পেপার নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রতীকে সিল মারার দৃশ্য দেখে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার কাজী আমান উল্ল্যাহ চৌধুরির কাছে অভিযোগ করার সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমার ওপর হামলা চালায়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাস চাকমার নেতৃত্বে অলি মেম্বার, কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সোহেলসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা পুলিশের সামনে আমাকে বেদম মারধর করে আহত করেছে।'
 
বিএনপি প্রার্থী বাদশা মিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'বাদশা মিয়া পরাজয়ের ঘণ্টার আওয়াজ শুনে বেসামাল হয়ে গেছেন।' শুভাস চাকমা অভিযোগ করে বলেন, 'বাদশা তার দলীয় লোকজন নিয়ে জাল ভোট দেয়ার চেস্টা করলে কর্তব্যরত আইন-শৃঙ্খখলা বাহিনীর মাধ্যমে তাদের বাধা দেয়া হয়। বাদশা মিয়ার ওপর হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানান। 
 
অন্যদিকে নতুন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ বিএনপি’র সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা হয়। পরে র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের অভিযানে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। 
 
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, 'পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।' তিনি বলেন, 'অত্যান্ত শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। এদিকে জাল ভোট দেয়ার অপরাধে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে মো. সেলিম নামের এক ভোটারকে হাতে নাতে আটক করে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্টেট মো. তোহিদুর রহমান।