ক্ষতিপূরণ বনায়ন ছাড়া বনের গাছ কর্তন নয় :হাইকোর্ট

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে বনের গাছ কাটা পড়লে সেখানে ‘ক্ষতিপূরণ বনায়ন’ প্রকল্প গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। অর্থাত্ যে পরিমাণ গাছ কাটা হবে তার চেয়ে দুই থেকে পাঁচগুণ বেশি গাছ রোপণ করতে হবে। একইসঙ্গে ‘ক্ষতিপূরণ বনায়ন’ ব্যতীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আদালত। এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন।

এ ছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রাকৃতিক সংরক্ষিত বন কেটে তেলের ডিপো নির্মাণ; মানিকগঞ্জ, সিঙ্গাইর, হেমায়েতপুর সড়কের গাছ কেটে রাস্তা সম্প্রসারণ; চাঁদপুর ইউনিয়ন, গাজীপুরের কাপাশিয়ায় প্রাকৃতিক সংরক্ষিত বন কেটে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং সংরক্ষিত গজারি বন কেটে গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমির বিপরীতে ‘ক্ষতিপূরণ বনায়ন’ বাস্তবায়নে আগামী ছয় মাসের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  গত এক বছরে অন্তত ৪টি ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানের সংরক্ষিত, প্রাকৃতিক ও সৃজনকৃত বন কেটে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া বন উজাড়ে অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে সরকার ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে কোনো সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) হাইকোর্টে এ সব বিষয় যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করে। আবেদনের পক্ষে আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও আলী মুস্তাফা খান শুনানি করেন।