সাভার পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী বদিউজ্জামান ভোট দিতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তিনি ভোটের দিন প্রকাশ্যে কোন কার্যক্রম চালাতে পারেননি। এমনকি কোন কেন্দ্রও পর্যবেক্ষণ করেননি তিনি।
সাভার ব্যাংক টাউনের অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোটার ২৩৯৫ জন। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আনোয়ারুজ্জামান বাবু জানান, সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ১০৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই কেন্দ্রের ছয়টি বুথের মধ্যে মাত্র একটিতে ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ছিল। বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে এই কেন্দ্রে ৪৫ ভাগ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পক্ষে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করলে প্রিজাইডিং অফিসার ৪ জনকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করে।
নারীদের ভোট কেন্দ্র নিউ ক্যামব্রীজ একাডেমিতে সকাল ১১ টার দিকে দেখা যায় কয়েকটি বুথে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। নব্বই বছরের বৃদ্ধা ভানু বেগম তার ছোট মেয়ে মঞ্জু বেগমের সহায়তায় কেন্দ্রে আসেন ভোট দিতে। এই কেন্দ্রের ৬ টি বুথের একটিতে ধানের শীষ প্রতীকের একজন পোলিং এজেন্টকে পাওয়া যায়। আমেনা বেগম জানান, কোন ভয়ভীতি ছাড়াই সুষ্ঠভাবে ভোট গ্রহণ হচ্ছে।
এদিকে, সাভারের রেডিও কলোনী সরকারি কেন্দ্রে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সালাউদ্দিন খান নাঈম অভিযোগ করেন, নিউ আইডিয়াল স্কুল ও আলামিন স্কুল কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। হামলায় তার পোলিং এজেন্ট মেহেদি হাসান আহত হয়েছেন। তিনি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে এনিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বিকালে ভোটগ্রহণ শেষে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী বদিউজ্জামান অভিযোগ করেছেন, সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থীর ক্যাডারদের ভয়ভীতিতে তিনি এলাকায় গিয়ে ভোটও দিতে পারেননি। ২ নং ও ৮ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে বহিরাগতরা নৌকা মার্কায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরেছে। এছাড়া আরো বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছে।