ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছে প্রিজাইটিং অফিসার।
বুধবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাসকে প্রায় ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখার পর এই ভোটের ফলাফল স্থগিত করে প্রশাসন। এর আগে বেসরকারি ফলাফলে জানা যায়, বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন প্রায় পাঁচ হাজার বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন।
পৌর নির্বাচনে ২১ কেন্দ্রের মধ্যে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে পৌরসভার ৩টি কেন্দ্রের ফলাফল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঠাকুরগাও পৌরসভার ২১টির মধ্যে ১৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ নিয়ে ১৫ হাজার ৭শ ৫৯ ভোট পেয়ে চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগের তাহমিনা আখতার মোল্লা নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১০হাজার ৭শ ১ ভোট। স্থগিত ৩টি কেন্দ্রের মোট ভোট ৬ হাজার ৩শ ৬১।
পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ডিসি কার্যালয়ে যায় নেতাকর্মীরা। শতাধিক কর্মী ডিসিকে তার কার্যালয়ে রেখে ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। সাংবাদিকদেরও সেখানে যেতে দেয়া হয় নাই।
সম্ভাব্য বিজয়ী মেয়র প্রার্থী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই।
এদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ বিজিবি মোতায়েন থাকলেও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সরানো যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াও হচ্ছে।
এখানে উল্লেখ্য যে, ঠাকুরগাঁও সদরের খানকা শরিফ এলাকায় বরাবর আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক বলেই পরিচিত। অবশ্য সেখানে ভোট নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় পীর। তিনি এবার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় বিপদে পড়েছেন দলীয় প্রার্থী। সেখানে সাড়ে ৪ হাজার ভোট রয়েছে। এই ভোটের বেশিরভাগ পেয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সোলায়মান আলী।
রিটানিং অফিসার ফজলে রাব্বী জানান, সাময়িক ভাবে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। প্রার্থীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী নিদের্শেনা দেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস অবরুদ্ধে কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পরে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনের ফলাফল জানানো হবে।