দ্বিতীয় টেস্টে চাপে আমলা

 
শনিবার নিউল্যান্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্টে চাপে থাকবেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হাশিম আমলা।
 
সর্বশেষ ২০১৫'র নতুন বছরের শুচিতে একই ভেন্যুতে দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় লাভের পর আর একটি টেস্ট ম্যাচেও ভাল করতে পারেনি আমলা এবং দক্ষিণ আফ্রিকা দল।
 
ডারবানের কিংসমেডে বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ২৪১ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। যা ছিল সপ্তম ম্যাচে প্রোটিয়দের চতুর্থ পরাজয়। অপর তিন ম্যাচে বৃষ্টি হানা দেয়ায় ড্র দিয়ে শেষ করেছে দলটি। বাকি তিন ম্যাচে পরাজিত হয়েছে ভারত সফরে।
 
এ সময়ের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ব্যাটিং পারফরমেন্স ছিল যাচ্ছেতাই। দশ ইনিংসের মধ্যে কেবলমাত্র তিনটিতে ২০০’র বেশি রান করতে সক্ষম হয়েছে প্রোটিয়াসরা। কেবলমাত্র একটি ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি এসেছে ডিন এলগারের ব্যাট থেকে। কিংসমেডে এলগারের অপরাজিত ১১৮ রান ছাড়া হাফ সেঞ্চুরি এসেছে তিনটি।
নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দীর্ঘতম খারাপা সময় কাটিয়েছেন আমলা নিজেই।
 
এ সময়ের মধ্যে ১০ টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৩সহ ১৫ গড়ে মাত্র ১৫০ রান করেছেন আমলা। ওয়ানডে এবং টি-২০ ফর্মেটেও তার বাজে ফর্ম অব্যাহত রয়েছে। অতি সম্প্রতি সংক্ষিপ্ত ভার্সনে ১৯ ইনিংসে কেবলমাত্র একটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন তিনি। গত আগস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র শতরান ছাড়া কোন অর্ধশতকও নেই তার দখলে।
 
২০১৪ সালে টেস্ট অধিনায়কত্ব পান আমলা। এ সময় শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে শুভ সূচনা করেন অধিনায়ক হিসেবে। সেই সঙ্গে ব্যাট হাতে নিজের ঝলকও দেখিয়েছেন তিনি।
 
কিন্তু তার সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ব্যাটিংয়ে মনোযোগী হতে অধিনায়কত্ব না নেয়ার মনোভাব অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, তার টেস্ট অধিনায়কত্বের ভবিষ্যত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
 
ধুকতে থাকা ব্যাটিং লাইনআপের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে না পেরে নিজের হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'আমরা জানি এ অবস্থা থেকে আমরা বেড়িয়ে আসতে পারি।'
 
ব্যাটিং লাইন আপকে শক্তিশালী এবং এবি ডি ভিলিয়ার্সের কাছ থেকে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব নিতে দলে আসতে পারেন কুইন্টন ডি কক। ফাস্ট বোলার ডেল স্টেইনের কাঁধের ইনজুরির কারণে তার না খেলাটা প্রায় নিশ্চিত। তাই দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে অন্তত একটি পরিবর্তন নিশ্চিতই বলা যায়।
 
পক্ষান্তরে ডারবান টেস্টে অধিকাংশ খেলোয়াড়ই পারফর্ম করায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়েই এ ম্যাচে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। তাদের একমাত্র সমস্যা ক্রিস ওকসের পরিবর্তে অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার জেমস এন্ডারনের ফেরা না ফেরা।
 
দক্ষিণ আফ্রিকা (সম্ভাব্য): হাশিম আমলা (অধিনায়ক), ডিন এলগার, স্টিয়ান ভ্যান জিল, ফাফ ডু প্লেসিস, এবি ডি ভিলিয়ার্স (উইকেটরক্ষক), টেম্বা বাভুমা, জেপি ডুমিনি, কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), রিলি রোসৌ, ডেল স্টেইন, মরনে মরকেল, কাগিসো রাবাদা, কাইল অ্যাবট, ডেন পিৎ, ক্রিম মরিস।
 
ইংল্যান্ড(সম্ভাব্য): এলিস্টার কুক(অধিনায়ক), অ্যালেক্স হেলস, নিক কম্টন, জো রুট, জেমস টেইলর. বেন স্টোকস, জনি বেয়ারস্টো,(উইকেটরক্ষক), মঈন আলী, ক্রিস ওকস অথবা জেমস এন্ডারসন, স্ট্রয়ার্ট ব্রড, স্টিভেন ফিন।