‘ছবি তুলতে হয় ধৈর্য ও ভালোবাসা নিয়ে

একুশে পদকপ্রাপ্তিতে আলোকচিত্রী সাইদা খানমকে সংবর্ধনা দিল তার সুহূদ ও অনুজ আলোকচিত্রীরা। গতকাল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গানে, কথায়, কবিতার পঙক্তিতে এবং ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন বাংলাদেশের প্রথম নারী এ আলোকচিত্রী।

এ সংবর্ধনায় অনুভূতি প্রকাশ করে পথিকৃত্ আলোকচিত্রী সাইদা খানম বলেন, ছবি তুলতে হয় ধৈর্য এবং ভালোবাসা নিয়ে। ধৈর্য নিয়ে ছবি তুললে সে ছবি ভালো হবে। সেইসঙ্গে ভালোবাসা নিয়ে ছবি তুলতে হয়। তিনি বলেন, আজকে অসংখ্য নারী আলোকচিত্রী দেখতে পেরে আমার খুব ভালো লাগে। জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসে এখন আমার জীবন সমতল হয়ে গেছে। কোনো উত্থান পতন নেই। কিন্তু আমি আমার জীবন নিয়ে খুশি।

অনুষ্ঠানের সূচনা সাইদা খানমের ওপরে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র দিয়ে। ‘সাইদা খানম-বাংলাদেশের পথিকৃত্ নারী আলোকচিত্রী’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন ইসমাত জাহান। এতে তিনি সাইদা খানমের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনকে তুলে এনেছেন। সাইদা খানমের কাজ নিয়ে বিশ্লেষণ যেমন উঠে এসেছে, তেমনি উঠে এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবন এবং তার আলোকচিত্রী হয়ে উঠবার গল্প। এ ছাড়াও, সত্যজিত্ রায়, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের ছবি তুলবার স্মরণীয় সব মুহূর্ত নিয়ে কথা বলেছেন সাইদা খানম।

প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পর শুরু হয় সংবর্ধনা প্রদান পর্ব। রোকাইয়া হাসিনা মিলির রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ পর্ব। তিনি গেয়ে শোনান সাইদা খানমের প্রিয় কয়েকটি গান। এগুলো হলো- সখী, ভাবনা কাহারে বলে, আহা, তোমার সঙ্গে খেলায় ও মনে রবে কিনা রবে আমারে। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কবি কাজী রোজী, মোরশেদুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। সুহূদ ও অনুজ আলোকচিত্রীদের পক্ষ থেকে সাইদা খানমের হাতে ক্রেস্ট ও ফুল তুলে দেন অভিনেত্রী আলেয়া ফেরদৌসী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আলোকচিত্রী মুনিরা মোরশেদ মুন্নী।

‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও ১১ মার্চ ১৯৪৮’ শীর্ষক আলোচনা

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চের ভাষা আন্দোলন দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এদিন আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি ৬৩ জন সংগ্রামী আটক হন। তাই একুশে ফেব্রুয়ারির আন্দোলনের সূতিকাগার বলা হয় দিনটিকে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও ১১ মার্চ ১৯৪৮’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

গতকাল সোমবার বিকালে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। নাট্যজন রামেন্দু মজুমদারের সভাপতিত্বে আলোচক ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী ও জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। সঞ্চালনা করেন জোটের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আহ্্কাম উল্লাহ্।

এর আগে বহ্নিশিখার শিল্পীদের কণ্ঠে ‘অপমানে তুমি জ্বলে উঠেছিলে সেদিন বর্ণমালা’ ও ‘ও মুই না বলো অন্য ভাষায়’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ আয়োজন। অনুষ্ঠানে একুশের কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল ও ইকবাল খোরশেদ। সবশেষে একুশের গান পরিবেশন করেন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা।