নাগেশ্বরীতে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূণ্য ২ টি গ্রাম

নাগেশ্বরীতে নির্বাচনী সহিংসতায় মামলা করেছে পুলিশ। এতে তিন জন গ্রেফতার হয়েছে। আতঙ্কে পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ২টি গ্রাম।  
 
এলাকাবাসী ও মামলা সুত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আলী জীবন (ডালিম)। বাগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার এ কে এম তছলিম উদ্দিন ভোটগণনা শেষে এ ফল ঘোষণা করেন। এ সময় পরাজিত ২ কাউন্সিলর প্রার্থী হাফেজ উদ্দিন (গাঁজর) ও আব্দুর রাজ্জাক (ব্লাকবোর্ড) পুনরায় ভোট গননার দাবি জানান। এ নিয়ে কেন্দ্রের বাইরে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। 
 
সন্ধ্যা সোয়া ৭ টায় প্রিজাইডিং অফিসার নির্বাচনী সামগ্রী নিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসে যাওয়ার পথে গোপালপুর পীরবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা মাঠে পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী হাফেজ উদ্দিন (গাঁজর), আব্দুর রাজ্জাক (ব্লাকবোর্ড) এর নেতৃত্বে আকালুর ভিটা ও গীরাইপাড় গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক মানুষ হামলা চালায়। এসময় তারা পুলিশ ভ্যানসহ নির্বাচনী মালামাল বহনকারী অটোরিকশা ভাংচুর করে মালামাল লুটের চেষ্টা চালায়। 
 
এতে এস আই আ. ছালাম, এস আই জিয়াউল হক আহত হন। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু আককাস আহম্মদ, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মামুন ভুইয়া, এএসপি (সার্কেল) মাসুদ আলম, ওসি তদন্ত মাসুমুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারাও এ হামলার শিকার হন। 
 
এ সময় হামলাকারীরা ম্যাজিষ্ট্রেটের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে নাগেশ্বরী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু আককাস আহম্মদের থুতনি ফেটে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ফিরে তারা নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। ওই দিন রাতেই নাগেশ্বরী থানার এস আই জিয়াউল হক বাদি হয়ে আকালুর ভিটা গ্রামের হাফেজ উদ্দিন ও গীরাইপাড় গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকসহ অজ্ঞাত ২ শত জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। 
 
ঘটনার রাত থেকে আকালুর ভিটা ও গীরাইপাড় গ্রামে পুলিশের সাড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফলে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে গ্রাম দুইটি।
 
ইতোমধ্যে পুলিশ আকালুর ভিটা গ্রাম থেকে মৃত শমসের আলী ব্যাপারীর ছেলে আবু বকর সিদ্দিক (৪৮), মৃত বাচ্চা মামুদ ব্যাপারীর ছেলে শামছুল হক (৫২) ও হাফেজ উদ্দিনের ছেলে জুল জালালকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে। 
 
রবিবার দুপুরে গ্রাম দুইটিতে ঘুরে কোনো পুরুষের দেখা মেলেনি। নারীরাও আতঙ্কে কথা বলতে রাজি হয়নি। 
 
নাগেশ্বরী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু আককাস আহম্মদ বলেন, 'ওইদিন প্রিজাইডং অফিসারসহ অন্যান্যদের উদ্ধার করতে গিয়ে আমরা পরাজিত প্রার্থী-সমর্থকদের হামলায় আহত হই।'