ইতিবাচক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ রিয়াদদের

গেল বছর অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। সদ্য শেষ হওয়া বছরে ওয়ানডে খেলে সফল হলেও নতুন বছরের শুরুতেই একের পর এক টি-টোয়েন্টি খেলতে হবে মাশরাফি-সাকিবদের। ফরম্যাট ভিন্ন হলেও ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
 
গতকাল রবিবার থেকে মিরপুরে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ক্যাম্প শুরু হয়। প্রথম দিনে সাকিব-ইমরুল ছাড়া বাকিরা সবাই উপস্থিত থেকে রিপোর্ট করেছেন। সদ্যজাত সন্তানের সাথে সাক্ষাত্ করতে যুক্তরাষ্টে রয়েছেন সাকিব। আগামী সপ্তাহে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রথম দিনে রিপোর্ট করতে আসেননি ইমরুল কায়েস। দুই-একদিনের মধ্যেই তার ক্যাম্পে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। এদিকে ছুটি কাটিয়ে এখনও ঢাকায় ফেরা হয়নি কোচ হাতুরুসিংহের। আজ-কালের মধ্যে তার ফেরার কথা রয়েছে।

প্রথম দিনে মারিও ভিল্লাভারায়েনের তত্ত্বাবধানে জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররা বিভিন্নরকম ফিটনেস ও গতির পরীক্ষা দিয়েছেন। এদিন অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেন, ‘গত বছর আমরা যেমন আক্রমণাত্মক এবং ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছি। তেমন ক্রিকেট খেলতে পারলে অবশ্যই ভালো রেজাল্ট আনা সম্ভব। আমাদের ইতিবাচক মানসিকতা দেখাতে হবে।’

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আমাদের অনেক কিছু করার আছে জানিয়ে রিয়াদ বলেন, ‘সব ফরম্যাটেই উন্নতির জায়গা থাকে। যতই খেলার মধ্যে থাকা যাবে ততোই অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব হবে। নতুন নতুন অনেক জিনিস শেখা যায়। আমার মনে হয়, দল হিসেবে আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি, এই বছর এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।’

২০১৫ সালে ভালো খেলার পর নতুন বছরেও খেলোয়াড়দের দায়িত্ব ভালো খেলা। জাতীয় দলের এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বলছিলেন, ‘নতুন বছরেও ভালো খেলা আমাদের দায়িত্ব। কিভাবে সবার প্রত্যাশা পূরণ করি। এখান থেকে পেছানোর সুযোগ নেই। আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখন। আরও ভালোভাবে পরিশ্রম করে এগিয়ে যেতে পারি। গত বছর ওয়ানডেতে ভালো করেছি, টি-টোয়েন্টি সেভাবে ভালো করিনি। এ বছর অনেকগুলো খেলা হবে। প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ, এরপর এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ। আশা করি আমরা ভালো একটি প্রস্তুতি নিতে পারবো। বিশ্বকাপের আগে আমাদের সামনে দুটি টুর্নামেন্ট আছে। সবগুলো সিরিজেই ভালো করার চেষ্টা করবো। টি-টেয়েন্টি কিংবা ওয়ানডে যাই হোক ভালো শুরুটাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিপিএল বরিশাল বুলসের এই অধিনায়ক বলেন, ‘সারপ্রাইজ বলবো না। এখন মনে হয় আমরা অনেক ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলছি। সবারই এখন প্রত্যাশা আমরা ভালো পারফরম্যান্স করি আরও। সামনে আমাদের হোম সিরিজ আছে, ওখানে আমাদের ভালো প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ হবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার আগে দুটি টুর্নামেন্ট। এটা আমাদের জন্য একটি ভালো সুযোগ। এখানে ভালো শুরু হলে এটাকে পরবর্তীতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে।’

নতুন বছরটা নিজের জন্য চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রিয়াদ বলেন, ‘এই বছরটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। এর জন্য আমার পরিশ্রমের পরিধিটাও আরও বাড়াতে হবে। চেষ্টা করছি পরিশ্রম করে নিজেকে আরও ভালো খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার। এটা অবশ্যই একাট চ্যালেঞ্জ। এখান থেকে পেছনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমার মনে হয় না টি-টোয়েন্টিতে আমি খুব একটা খারাপ খেলোয়াড়। জানি না অন্যরা কিভাবে দেখে। আমার মনে হয় আমি খুব আত্মবিশ্বাসী এই ফরম্যাটের ক্রিকেটে। বিপিএল ভালো হওয়ার কারণে আমার আত্মবিশ্বাস এখন অনেক ভালো, আমাকে আরও কষ্ট করতে হবে। এর জন্য আমি প্রস্তুত।’ তিনি এও জানান, সুযোগ পেলে উপরের দিকে ব্যাটিং করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তবে এটা পুরোটাই টিম ম্যানেজম্যান্টের বিষয়।