জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারপিট করেছে। মারপিটের শিকার আল মহসিন সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক।
জানা গেছে, সোমবার সকালে থানা গেটের সামনে নেতা-কর্মী নিয়ে উপস্থিত হয়ে বিশা নামে আটক এক ব্যক্তিকে ছাড়াতে এসে থানার ওসি সিরাজুল ইসলামকে উচ্চস্বরে গালিগালাজ করেন আল মহসিন। বিষয়টি জানতে পেরে ওসি সিরাজুল ক্ষিপ্ত হয়ে বেলা ১১ টার দিকে তাকে ধরতে সঙ্গীয় ফোর্সসহ পাঁচশিরা বাজারে উপস্থিত হন। এ সময় ওই বাজারের এক চায়ের দোকানে আল মহসিনকে দেখতে পেয়ে জন সম্মুখেই তাকে বেধড়ক মারপিট করে এবং আটক করে থানায় নিয়ে যায় ওসি।
এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আল মহসীনের সমর্থকরা কালাই মাইক্রো স্ট্যান্ড এলাকায় জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা চালান। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম তালুকদার পরিস্থিতি শান্ত করে।
কালাই পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হেলাল উদ্দীন মোল্ল্যার অভিযোগ, ওসি সিরাজুল নানা অজুহাতে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে গণহারে সাধারণ মানুষকে ধরে হয়রানি করছেন। জনপ্রতিনিধির দায়িত্ববোধ থেকেই আটক একজনকে ছাড়াতে গিয়ে আল মহসিন মারপিটের শিকার হলেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আল মহসিন বলেন, ‘আটক বিশার পরিবারের অনুরোধে থানার উদ্দেশ্যে যাই। থানার গেটের সামনে গিয়েই তাকে ছেড়ে দেয়ার খবর পেয়ে ভিতরে না গিয়ে পাঁচশিরা বাজারে ফিরে আসি। সেখানে একটি স্টলে চা খাওয়ার সময় কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওসি সিরাজুল আমাকে বেধড়ক মারপিট করে থানায় নিয়ে আটক করে রাখে।’
থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এক মাদক সেবীকে আটকের ঘটনায় আল মহসিন পুলিশকে ধমক দেয়, গালিগালাজ করে এবং থানার সামনে এসে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।'