লক্ষ্মীপুরে আদালত চত্বরে পাল্টা পাল্টি বিক্ষোভ মিছিল, এজলাসে হামলা-ভাঙচুর, আহত ১৫

লক্ষ্মীপুরে আইনজীবী সমিতির সস্প্রসারিত নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে দফায় দফায় পাল্টা পাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। এ সময় বিচারকদের এজলাসে হামলা ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলায় জজকোর্টের ১২ কর্মচারী ও দুই আইনজীবীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।  ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে।
 
মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত আবদুল মতিন, বেলাল হোসেন ও সুখ দেবসহ তিনজনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। অন্যদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
 
আইনজীবী সমিতি ও জজকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে নিজেদের সম্পত্তি দাবি করে নতুন করে আরো একটি সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছিল আইনজীবী সমিতি। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আকতার হোসেন ও গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কাজ না করতে অনুরোধ জানায় আইনজীবী সমিতিকে। কিন্তু তারা তা না মেনে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তাই আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে শনিবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সহেল রানার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয়।
 
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আইনজীবী সমিতি কোর্ট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে প্রতিদিন কোর্ট বর্জন করতে থাকে। এর জের ধরে  মঙ্গলবার সকালে কোর্ট বর্জন করে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এক পর্যায়ে মিছিল নিয়ে জেলা ও দায়রা জজ কোর্টের তৃতীয় তলায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম ও জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারককের এজলাসে হামলা চালিয়ে দরজা ও জানালা ভাঙচুর করে আইনজীবীরা। এ সময় আইনজীবীদের বাধা দিতে গিয়ে মারামারিতে জজকোর্ট ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির এমরান হোসেন, সেরেস্তাদার আবদুল মতিন, সোলায়মান হোসেন, পেশকার আউয়ুব আলী, মো. জসিম উদ্দিন, আবদুর রহমান, ইমাম হোসেন মিন্টু, হেলাল উদ্দিন, টিপু সুলতান ও কাজলসহ ১২ কর্মচারী এবং আইনজীবী হাসিব ও নাহিদসহ ১৫ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।  জজকোর্টে হামলা ও কর্মচারীদের মারধর করার প্রতিবাদে কর্মচারীরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
 
মিছিলে আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর নুর, সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকউল্যা, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ ব্যাপারীসহ আইনজীবী সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আকতার হোসেন ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. মহিদুজ্জামানকে প্রত্যাহার করার দাবি জানান। অন্যথায় আরো কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি দেন তারা।
 
জজকোর্টের কর্মচারীরা জানান, আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে অতর্কিতেবে হামলা চালিয়ে এজলাসের দরজা জানাল ভাঙচুর এবং কর্মচারীদের মারধর করে আহত করে।
 
অপর দিকে জেলা ও দায়রা জজকোর্টের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গোলাম সারোয়ারের অভিযোগ, আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে জজকোর্টের তৃতীয় তলায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জজ আদালতের বিচারকের এজলাসের দরজা ও জানালা ভাঙচুর করে। এছাড়া জজকোর্ট ও চিফ জুডিশিয়াল আদালতের ১২ কর্মচারীদের মারধর করে আহত করে। এর প্রতিবাদে কর্মচারীরা বিক্ষোভ করে বলেও জানান তিনি।
 
জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ ব্যাপারী জানান, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচার মো. আকতার হোসেন ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট মহিদুজ্জামানের অনিয়ম ও দুনীর্তির অভিযোগে রবিবার থেকে এই দুই বিচারকের আদালত বর্জন করে আসছে আইনজীবী সমিতি। তার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে আদালত চত্বরে আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে একটি মিছিল বের করা হয়। ওই মিছিল জজকোর্টর তৃতীয় তলা পৌঁছালে জজকোর্টের কর্মচারীরা বাধা দেয় এবং দুই আইনজীবীকে মারধর করে।
 
তার দাবি, জজকোর্টের এজলাস কর্মচারীরা ভাঙচুর করে আইনজীবী সমিতিকে দোষারোপ করছে।
 
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন ভূইঁয়া জানান, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, ৭ ডিসেম্বর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহা. মহিদুজ্জামান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর জজশিপের নামে বরাদ্দকৃত জায়গায় আইনজীবী সমিতি অবৈধভাবে দখল করে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বলে একটি পত্র পাঠায়।