অবশেষে শনিবার গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে মোট ১৯ টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এর মধ্যে অর্ডিনারি গ্রুপে ১২ জন, অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে ছয়জন ও গ্রুপ অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে একজন। গ্রুপ অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচিত হন। অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে চারটি প্যানেলে ৩৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যালয় সূত্র জানায়, সমিতির বর্তমান সভাপতি আবুল খায়ের মোরছেলিন পারভেজের দায়িত্ব পালনকালে গত বছরের ১৭ মে আইনজীবী আনিস মোস্তফাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে ৮ অগাস্ট নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করে। কিন্তু নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন অনিয়মের কারণে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির তিন সদস্যই পদত্যাগ করেন। পরে ১১ জুলাই আইনজীবী সুলতান আলীকে আহ্বায়ক করে পুনরায় তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ২৭ অগাস্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে। এই পরিচালনা কমিটি তাদের মেয়াদ তিন মাস বর্ধিত করার জন্য নির্বাহী কমিটিকে অনুরোধ করে। কিন্তু নির্বাহী কমিটি কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হয় এই দুই কমিটি।
এদিকে ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) মো. শামছুল আজমকে চেম্বারের প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। প্রশাসকের এই কমিটি সহকারী কমিশনার আবু সুফিয়ানকে আহ্বায়ক করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি একই সালের ১৪ অক্টোবর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে। তফসিলে আগামী ৯ জানুয়ারি শনিবার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হয়।
গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি অনোয়ারুল কাদির বলেন, ‘বর্তমান সভাপতি আবুল খায়ের মোরছেলিন পারভেজ নির্বাচিত হবার জন্য বিধি বহির্ভূতভাবে কিছু ব্যবসায়ীকে সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরে সঠিক ভোটার যাচাইবাছাই করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসক সদস্য যাচাইবাছাই করে ১৫১ জনকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করলে বর্তমান সভাপতি উচ্চ আদালতে যান।’
বর্তমান সভাপতি আবুল খায়ের মোরছেলীন পারভেজ বলেন, ‘আমরা সঠিক নিয়মে নির্বাচন করছিলাম। কিন্তু নির্বাচন বাতিলের জন্য সাবেক সভাপতি অভিযোগ দায়ের করেন। উপরন্ত তারা প্রভাব খাটিয়ে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রশাসক নিয়োগ করে। এছাড়া বাদপড়া ব্যবসায়ীদের পক্ষে চেম্বারের পরিচালক এমরান কবির গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। ২৯ ডিসেম্বর শুনানি শেষে আদালত সঠিক সদস্য যাচাই-বাছাই করে তাদের ভোটার করার জন্য চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রশাসককে নির্দেশ দেন। বর্তমানে যাচাইবাছাই কাজ চলছে।’
গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) মো. শামছুল আজম বলেন, ‘উচ্চ আদালত থেকে যাচাইবাছাই করার নির্দেশ সংক্রান্ত কোন কাগজ পাইনি। যে কারণে ৯ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোন বাধা নেই।’
সমিতির কার্যালয় সূত্রটি আরো জানায়, বণিক সমিতির নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৮১৯ জন। এর মধ্যে অর্ডিনারি গ্রুপে ৬৯৭ জন, অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে ১২১ জন ও গ্রুপ অ্যাসাসিয়েট গ্রুপে একজন।