চট্টগ্রামে দীর্ঘসূত্রতার কবলে কর্ণফুলী পানি শোধন প্রকল্প

নগরীর বিশুদ্ধ পানির সংকট কয়েক দশকের পুরনো। চট্টগ্রাম ওয়াসার দাবি, কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পানি সংকট অনেকাংশে লাঘব হবে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরায় নির্মাণাধীন প্রকল্পটির ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন মেয়াদ ছিল। পরে কয়েক দফায় বাড়ানোর পর গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পের ৩টি অংশের মধ্যে ২ অংশের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের পানি শোধনাগার নির্মাণ নিয়ে চলছে দীর্ঘসূত্রতা। ওয়াসা সূত্র জানায়, প্রকল্পের মেয়াদ আবার আগামী মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে অবশিষ্ট কাজ শেষ হতে আরো সময় গড়াতে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
 
উল্লেখ্য, ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ প্রকল্পটি জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি থেকে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে। গত প্রায় ২৫ বছরে চট্টগ্রাম ওয়াসায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের বড় ধরনের কোনো পানি শোধনাগার প্রকল্প নির্মিত হয়নি। ১৯৮৭ সালে মোহরায় দৈনিক ৯ কোটি লিটার পরিশোধনের ক্ষমতা সম্পন্ন একটি প্রকল্প নির্মিত হয়। পরবর্তীতে ওয়াসা রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী স্থানে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প নামে একটি পানি শোধনাগার নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেয়। ২০০৬ সালে এটি একনেকে অনুমোদন লাভ করে। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের কাজ ২০০৮ সাল পর্যন্ত কোনো অগগ্রতি হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে প্রকল্পের ডিজাইন, ড্রয়িং ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ৩টি প্যাকেজে কার্যাদেশ দেয়া হয়। এর মধ্যে পানি শোধনাগার এবং ইনটেক ফ্যাসিলিটিজ নির্মাণ কাজ পায় চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না টেকনিক্যাল ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কর্পোরেশন এবং বেইজিং সাইন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড জে-ভি। ৭৮ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইন স্থাপনের কাজ জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুবোতা-মাবুবেনী জে-ভি এবং রিজার্ভার নির্মাণ ও বুস্টার পাম্পস্টেশন পুনর্বাসন প্যাকেজের কাজ দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোলন গ্লোবাল কর্পোরেশন। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৩টি প্যাকেজের মধ্যে বিতরণ পাইপ লাইন ও রিজার্ভার এবং বুস্টার পাম্প স্টেশন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু পানি শোধনাগার নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা চলছে। গত ডিসেম্বরে কাজ সমাপ্ত হওয়ায় কথা থাকলেও আবার আগামী মার্চ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাড়তি মেয়াদেও কাজ সমাপ্তি নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তা জানান। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী জহুরুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘শোধনাগারের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখন শোধনাগারে মেশিনগুলো স্থাপন করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।’
 
প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, কাজ বিলম্ব হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণকে দায়ী করছে ঠিকাদার। গত বছরের শুরুতে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট স্থানীয় একটি চক্রের চাঁদা দাবির কারণে প্রায় ৩/৪ মাস প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকে। জটিলতা নিরসনের পর পুনরায় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এছাড়া হরতাল, অবরোধের কারণে প্রকল্পের কাজ দফায় দফায় বাধাগ্রস্ত হয়।
 
ওয়াসার মতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশুদ্ধ পানির দৈনিক চাহিদা ৫০ কোটি লিটার। আর ওয়াসা সরবরাহ করতে পারছে প্রায় ২০ কোটি লিটার। মোহরা পানি শোধনাগার ও ৯৫টি গভীর নলকূপ থেকে এসব পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। নির্মাণাধীন কর্ণফুলী পানি শোধনাগার চালু হলে সরবরাহ বেড়ে দাঁড়াবে দৈনিক ৩৪ কোটি লিটার।