৭ জানুয়ারি বিশ্ব ফেলানী দিবস পালনের দাবি

 
কিশোরী ফেলানী হত্যার পাঁচ বছর পূর্ণ হচ্ছে বৃহস্পতিবার। এইদিনকে বিশ্ব ফেলানী হত্যা দিবস পালনের দাবি জানিয়েছে নাগরিক পরিষদ। বুধবার রাজধানীর তোপখানা নির্মল সেন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়েছে।
 
নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মো. শামসুদ্দীন জানান, বিশ্বব্যাপী ফেলানী দিবস পালন, অমিয় ঘোষের ফাঁসি, ফেলানীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তের নাম ফেলানী সীমান্ত নামকরণ, ঢাকার গুলশান-১ গোলচত্ত্বর থেকে তেজগাঁও রাস্তার নাম ফেলানী সরণী, সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বন্ধের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ইতোমধ্যে আমরা জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবর বিশ্বব্যাপী সীমান্ত হত্যা বন্ধে ৭ জানুয়ারি ফেলানী দিবস পালনের জন্য স্মারকলিপি প্রদান করেছি।
 
সংবাদ সম্মেলনে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ও মা জাহানারা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
 
ফেলানী হত্যা মামলার বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্য মানবাধিকার কর্মী, কুড়িগ্রাম জেলা জর্জ কোর্ট পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন বলেন, আগে আদালতের যে ফলাফল দেয়া হয়েছে তা কেউ ন্যায় বিচার অংশ বলে মনে করেন না। তাই সুপ্রিম কোর্টও ন্যায় বিচারের জন্য পরবর্তী আবেদনটি গ্রহণ করেছে। আশা করি নতুন বছরেই এর সমাধান হবে।
 
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট সালমা আলী জানান, ন্যায় বিচারের আশায় দীর্ঘদিন থেকে এই মামলাটি ঝুলছে। এর সঙ্গে দুই দেশের ভাবমূর্তির বিষয়টি জড়িত। সীমান্তে নিরস্ত্র শিশু ফেলানী হত্যার ন্যায় বিচার দুই দেশের মানুষই চায়। আমার প্রত্যাশা নতুন বছরের প্রথমার্ধে আমরা ফেলানী হত্যার ন্যায় বিচার পাব।
 
২০১১ সালের এই দিনে ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর অনন্তপুর সীমান্তে ৯৪৭নং আন্তর্জাতিক পিলার ৩নং সাব পিলারের পাশ দিয়ে মই বেয়ে কাটাতার ডিঙ্গিয়ে বাবার সাথে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় টহলরত চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ তাকে গুলি করে হত্যা করে।
 
২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট কোচবিহার জেলার বিএসএফ’র ১৮১ সদর দপ্তরের স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যার বিচারকার্য শুরু হয়। ৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করে। রায় প্রত্যাখ্যান করে ১১ সেপ্টেম্বর ফেলানীর বাবা ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে সে দেশের সরকারকে ন্যায় বিচারের আশায় পত্র দেন।
২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনঃবিচার কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে তা একাধিকবার স্থগিত হয়। ২০১৫  সালের ২ জুলাই বিএসএফের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্ট আগের রায় বহাল রাখে।
 
৬ আগস্ট সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, ভারতের নয়া দিল্লিতে সীমান্ত সম্মেলনে ফেলানী ইস্যুতে বিএসএফ মহাপরিচালক ডিকে পাঠক বলেন, নিম্ন আদালতের দেয়া রায় তিনি অনুমোদন করেননি। যদি ফেলানীর পরিবার এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয় এবং বিএসএফকে অবহিত করে তাহলে বিএসএফ নতুনভাবে আদালত গঠন করে নতুন বিচারকদের সমন্বয়ে বিচার করবে।
 
এছাড়াও ২০১৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ফেলানী হত্যা ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ১ম ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী ২য় বাদী হয়ে আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া) সচিব এবং বিএসএফের মহাপরিচালককে বিবাদী করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নয়াদিল্লীতে ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী একটি ফৌজদারী মামলা করেন।
 
২০১৫ সালের ২১ জুলাই ফেলানীর বাবার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ চেয়ে আরো একটি আবেদন করেন। পরে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ আরো একটি ক্ষতিপূরণ মামলা করে। ৩১ আগস্ট ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সেদেশের সরকারকে ফেলানীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ রুপি প্রদানের অনুরোধ করেন। এর জবাবে সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফেলানীর বাবা নুর ইসলামকে দায়ী করে বক্তব্য দেয়।