কাজী আরেফসহ ৫ নেতা হত্যা মামলার রায় কার্যকর শিগগিরই

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফসহ ৫ জাসদ নেতা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামির রায় যেকোনো সময় কার্যকর করা হবে।
 
যশোর কারাগারে থাকা এই আসামিরা হলেন- আনোয়ার হোসেন, রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু ও হাবিবুর রহমান হাবি।
 
নিহত জাসদ নেতা এয়াকুব আলীর ছেলে ইউসুফ আলী রুশো বলেন, ‘আমার পিতাসহ পাঁচ নেতার খুনিদের শাস্তি হবে। এতে আমরা খুব খুশি। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। তবে এ রায় আরো আগে কার্যকর হওয়া উচিৎ ছিল।’
 
কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন বলেন, কাজী আরেফ একজন নিঃস্বার্থ ও প্রচারবিমুখ নেতা ছিলেন। তিনি সন্ত্রাস ও সম্প্রদায়িকতামুক্ত দেশ গড়ায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসী কলঙ্কমুক্ত হবে।
 
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় চরমপন্থিদের ব্রাশফায়ারে প্রাণ হারান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদ, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন ও সমশের মণ্ডল। হত্যাকাণ্ডের ৫ বছর পর ২০০৪ সালের ৩০ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা জজ আদালত এ হত্যা মামলায় ১০ জনের ফাঁসি ও ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
 
আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করলে ২০০৮ সালের ৩১ আগস্ট ১ জন ফাঁসির আসামি ও ১০ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির শাস্তি মওকুফ করে রায় দেন আদালত।
 
সরকার পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে ২০১১ সালের ৭ আগস্ট হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে রায় দেন আদালত। হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামি রিভিউ আবেদন করেন। কিন্তু ১৮ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৩ আসামির রিভিউ আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ফলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা নেই। রিভিউ আবেদনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির এবং আসামি পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।