ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়ে প্রস্তাবিত মেট্রোরেলের রুট পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘মেট্রোরেলের রুট বদলাও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঁচাও’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে একটি মিছিল রাজু ভাস্কর্য থেকে অপরাজেয় বাংলা, শাহবাগ মোড় ঘুরে আবার রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়।
এ মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি স্বাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস জড়িত। আর আজ সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুক চিড়ে মেট্রোরেল করার মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশকে বিনষ্ট করার পাঁয়তারা চলছে। যেখানে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে থাকি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুত্ফা বলেন, সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে যদি মেট্রোরেলের রুট পরিবর্তন করা সম্ভব হয় তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে রুট কেন পরিবর্তন করা হবে না? আমরা উন্নয়নের বিপক্ষে নই, আমরা মেট্রোরেল চাই। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে ধ্বংস করে নয়। তিনি আরো বলেন, কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুক চিড়ে কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। যেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
মানববন্ধনের অন্যতম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র সঞ্জীবন সুদীপ বলেন, প্রস্তাবিত মেট্রোরেলের পরিকল্পনায় এর রুটের একটি অংশ শাহবাগ-টিএসসি-দোয়েল চত্বর হয়ে প্রেসক্লাবের দিকে যাওয়ার কথা রয়েছে এবং দোয়েল চত্বরে একটি স্টপেজ রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা মোতাবেক এখানে একটি সুপরিসর স্টেশন নির্মিত হবে, স্টেশনের প্রস্থটি বেশ বড়সড়। তিন মিনিট পর পর ট্রেন থামবে এই স্টপেজে। কাজেই সারাদিন ভিড় লেগেই থাকবে। অন্যদিকে, মেট্রোরেলের পিলারগুলো রাস্তার মাঝ দিয়ে যাবে ফলে নিচের রাস্তাগুলো সঙ্কুচিত হয়ে পড়বে। তার উপর বাড়তি যানবাহনের চাপে পুরো এলাকায় অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হবে। ভাঙতে হবে টিএসসি, কার্জন হল, বাংলা একাডেমি, মুঘল আমলের নিদর্শন, পরমাণু শক্তি কমিশন, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট, তিন নেতার মাজারসহ ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ।
তিনি বলেন, প্রায় একশ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলা ট্রেনের শব্দের কারণে মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের কবলে পড়বে বিশ্ববিদ্যালয়। এতে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। বিপুল পরিমাণ গাছ কাটা পড়বে, ক্যাম্পাস হারাবে তার স্বাভাবিক সবুজ সৌন্দর্য। বস্তুত ক্যাম্পাসের একটি বড় অংশজুড়ে ঝুলন্ত ছাদ থাকবে, ঐতিহাসিক রাজু ভাষ্কর্য হারাবে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য। তাই আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, মেট্রোরেল আমরাও চাই, তবে আমাদের শিক্ষাঙ্গনের বুক চিরে নয়।