প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সম্ভাবনাময় আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন পাবনা সেচ ও পল্লি উন্নয়ন (আইআরডি) প্রকল্পের সেচ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় কৃষকরা পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেচ সুবিধা। প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। প্রকল্প এলাকায় ১৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করে বছরে এক লাখ ৯১ হাজার টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
কিন্তু গত ২৪ বছরে প্রকল্পের কমান্ড এরিয়া বেড়া-সাঁথিয়ায় প্রায় ১৭ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। যে কারণে কাঙ্ক্ষিত সেচ ও ফসল উৎপাদন এখন শুধুই কল্পকাহিনী।
প্রকল্প এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে বোরো মৌসুমে শুরু হয়েছে। পাবনা সেচ ও পল্লি উন্নয়ন প্রকল্পের কমান্ড এরিয়া বেড়া-সাঁথিয়া উপজেলায় গত মওসুমে বোরোর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছিল আট শ হেক্টর। চলতি মওসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ৩৫০ হেক্টর। কিন্তু এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেড়া পাউবোর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
কমান্ড এরিয়ার সেচ ক্যানেলের ক্ষতিগ্রস্ত ডাইক বাধ এখন পর্যন্ত সংস্কার বা মেরামত করা হয়নি। আর এতে প্রকল্প থেকে পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে কি-না, তা নিয়ে কৃষকরা আশঙ্কায় রয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, সেচ প্রদানের ব্যাপারে বেড়া পাউবো কর্তৃপক্ষের তৎপরতা নেই। যেখানে ইরিগেশনের সুবিধার্থেই বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বেড়া ডিভিশন অফিস) পাবনা সেচ প্রকল্পটি স্থাপন করে।
বেড়া পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুখলেছুর রহমান প্রকল্পের সেচ অবকাঠামো সংস্কারে এরই মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন এই ইরিগেশন প্রজেক্টটি পুরোদমে চালু করার জন্য পরিকল্পিতভাবে সেচ ও নিষ্কাশন ক্যানেলসহ অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন ও সংস্কার সাধন করতে হবে। তবেই পাবনা সেচ প্রকল্পে ফসল উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এছাড়া কৃষক পেঁয়াজ, রসুন ও মরিচসহ অন্যান্য লাভজনক ফসল আবাদে ঝুঁকে পড়ায় বোরো আবাদের জমির পরিমাণ কমছে।’