ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বালেখাল বাজারে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হোমিও চিকিৎসক সমির আলি বিশ্বাসের (৮৫) ধর্মী পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। খ্রীষ্টান সম্প্রদায় দাবি করে তিনি ২০০১ সালে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। অপরদিকে তার ছেলের দাবি, সমির আলি কোনো দিন খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেননি।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে বালেখাল বাজারে চেম্বারের চেয়ারে মাথা হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় চিকিৎসক সমির আলি বিশ্বাসকে (৮৫) দেখতে পান আগত রোগিরা। ডাকাডাকির পরও তার কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না তারা। একপর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন ভেবে রোগিরা চেয়ার থেকে নামানোর পর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত দেখতে পান।
‘ওয়ানওয়ে চার্চ বাংলাদেশ’র ঝিনাইদহ এলাকার কো- অর্ডিনেটর হারুন অর রশিদ জানান, সমির আলি ২০০১ সালে সংস্থাটির ধর্মীয় দাওয়াতে অনুপ্রাণিত হয়ে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি একজন খৃষ্টধর্ম প্রচারকও ছিলেন।
তার অভিযোগ, জঙ্গিরা তাকে হত্যা করেছে।
ওয়ানওয়ে চার্চের সুপার ভাইজার পিকুল মাধুরি বলেন, ‘তিনি গত বড়দিনের প্রার্থনায় অংশ নেন। রবিবার ঝিনাইদহ শহরের পার্শবর্তী গোপীনাথপুর গ্রামের গির্জায় একটি সভায়ও অংশ নেন। সেখানে সমির জীবননাশের হুমকি আসছে বলে জানান।’
আলমপুর এজি গির্জার পালক জাহিদ বলেন, ‘তিনি নিহত সমির আলির মাধ্যমে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। প্রায় পাঁচ শ লোক সমির অলির মাধ্যমে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
নিহতের ছেলে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘তার বাবা নিয়মিত নামাজ পড়তেন। মুসলমান ছিলেন।’
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সমির আলি ২০০১ সালে খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করলেও পরে ইসলাম ধর্মে ফিরে আসেন। হত্যার রহস্যে উন্মোচনে তদন্ত চলছে।’