চুনারুঘাটে ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলে’র সমর্থনে ও বিরুদ্ধে সমাবেশ

চুনারুঘাট উপজেলার চান্দপুর-বেগমখান চা বাগানের কৃষিজমিতে স্পেশাল ইকোনমিক জোন বা (বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) স্থাপন নিয়ে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ৫১১ একর অর্থনৈতিক জোন স্থাপন এলাকায় ২৩ চা-বাগানের শ্রমিকদের সমাবেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক সংসদীয় কমিটির আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, তেল গ্যাস রক্ষা কমিটির সভাপতি আনু   মোহাম্মদ, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, রবীন্দ্রনাথ সরেন, লাকী আক্তার, বিভূতি ভূষণ, লিটন পাল, ভূমিরক্ষা কমিটির সভাপতি রাম ভূষণ কৈরী, বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অভিরাত বাকতি, ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক রবি মোহন দাসসহ ২৩টি চা-বাগানের হাজার হাজার শ্রমিক সমবেত হয়ে প্রতিবাদ জানায়। তারা ‘জান দিবে তো ভূমি দিবে না’ এমন স্লোগান দেয়। এখানে বিদেশি বিনিয়োগ হবে, অনেকের চাকরি হবে, রাস্তাঘাট উন্নত হবে, এরকম বহু আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। কিন্তু চা-শ্রমিকসহ এলাকাবাসী কী হারাবে তা বলা হচ্ছে না। আমরা শিল্পের বিরুদ্ধে নই। আমরা কৃৃষিজমি ধ্বংসের এবং চা-শ্রমিকদের আবাদি জমি কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করছি। তারা বলেন, স্পেশাল ইকোনমিক জোনে স্থানীয় জনগণ চাকরির সুযোগ পেয়েছে এমন দেখা যায় না।

 
অপরদিকে চুনারুঘাটের চান্দপুর চা বাগানের কাছে ৫১১ একর সরকারি খাস জমিতে হবিগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবিতে শতাধিক এলাকাবাসী মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। শনিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টায় পর্যন্ত দেওরগাছ আদর্শ বাজারে শতাধিক মানুষ এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। পরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মহরম আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কদ্দুছ, সত্যেন্দ্র চন্দ্র দেব, আশ্রাব আলী হাবিলদার, সুজিত কুমার দেব, আব্দুল হক, আব্দুল আউয়াল, শ্রমিক নেতা জিতু মিয়া, বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সিরাজ আলী, আরজু মিয়া মাস্টার, যুবলীগ সভাপতি ইয়াকৃত মিয়া, সেক্রেটারি সবুজ মিয়া, শাহাবুদ্দিন, আঃ মতিন, আব্দুর রউফ, উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি শাহ জাহান চৌধুরী, সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ আহ্বায়ক কবির মিয়া খন্দকার, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিন, শ্রমিক নেতা কাজল মিয়া প্রমুখ। বক্তারা চুনারুঘাট উপজেলায় হবিগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে বলেন, কতিপয় চা শ্রমিক নেতা সাধারণ চা শ্রমিকদেরকে ভুল বুঝিয়ে, ইকোনমিক জোন হলে তাদের বাড়িঘর উচ্ছেদ করা হবে, এমন ভুল তথ্য দিয়ে আন্দোলনের চেষ্টা করছে। তারা বলেন, এখানে ইকোনমিক জোন হলে কোনো চা শ্রমিক তাদের বাড়িঘর হারাবে না। এখানে প্রত্যেক শ্রমিকের ঘর থেকে একজন করে চাকরি দেয়া হবে।