যানজটে চরম দুর্ভোগে রাজধানীবাসী

 
সোমবার দিনভর যানজটে নাকাল হয়েছে রাজধানীবাসী। সন্ধ্যায় তা আরো ভয়ংকর আকার ধারণ করে। বেশিরভাগ নগরবাসীকে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে ফিরতে দেখা গেছে।
 
IMG0
 
ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উত্তরা, মিরপুর রোড, মগবাজার, কাজি নজরুল ইসলাম এভিনিউ, মালিবাগ, মৌচাক এলাকায় ‘অস্বাভাবিক’ যানজট ছিল।
 
IMG1
 
জানা গেছে, এদিন সকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দুজনই সড়কে বেরিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবন থেকে র্যাডিসান হোটেলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি যান শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে গিয়েছিলেন সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দিতে।
 
রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের যাতায়াতের কারণে সড়ক কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকায় যানজট বেড়ে যায় বলে ভুক্তভোগীরা মনে করছেন। বেলা ১০টায় উত্তরা থেকে যারা বনানী বা গুলশানের দিকে এসেছেন, তাদের খিলক্ষেত পর্যন্ত আসতেই এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল।
 
উত্তরা থেকে মহাখালীতে নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে কুড়িলে যানজটে আটকে থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লুবনা তাবাসসুম বলেন, ‘আমি এক ঘণ্টা কুড়িল এলাকায় আটকে ছিলাম। পুরো রাস্তা স্থবির হয়ে ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে আমার সময় লেগেছে দুই ঘণ্টারও বেশি।’
 
সকাল ১০টা থেকে মিরপুর-১, গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলী এলাকায়ও যানজট দেখা গেছে। মিরপুর ১০ নম্বর থেকে পূরবী পর্যন্ত দুপুরেও যানজট ছিল। মিরপুর এলাকায় গাড়ি সঙ্কটও দেখা গেছে।
 
গুলশানে যেতে শ্যামলীতে অপেক্ষায় থাকা ব্যাংক কর্মকর্তা মোবাশ্বের হোসেন বলেন, “এই রুটে দুটি বাস আছে। সিএনজিও মোটামুটি অ্যাভেইলেবেল। কিন্তু আজ  কী হল বুঝতে পারছি না। বাস-সিএনজি কিচ্ছু নেই।”
 

কয়েকজন পরিবহন প্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা থাকায় অনেক বাস নেতা-কর্মীরা নিয়ে গেছেন। আবার তা এড়াতে অনেক বাস সড়কে নামেনি। তাই বাস কম। আওয়ামী লীগের সমাবেশ শুরুর আগে দুপুরে শাহবাগ থেকে মত্স্য ভবনমুখী সড়কটি পুলিশ বন্ধ করে দিলে যানজট ফার্মগেইট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।