সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
বাংলাদেশে এবারই প্রথম নিজেদের আয়োজনে বয়স ভিত্তিক নারী ফুটবলে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে। এর আগেও এএফসি নারী ফুটবল হয়েছে। তবে বাফুফের আয়োজনে এবারই প্রথম অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল টুর্নামেন্ট হবে। ৬ জাতির এই টুর্নামেন্ট নিয়ে গতকাল দুপুরে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছয় দেশের নাম ঘোষণা করা হয়। গ্রুপিং, ফিশ্চার, থীমসং লোগো উন্মোচনে জমকালো আয়োজন করা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গমাতার নামে এবারই প্রথম ৬ জাতির আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে। খেলা শুরু হবে ২২ এপ্রিল। ৩ মে ফাইনাল।
পুরো অনুষ্ঠানটা ঘিরেই ছিল দেশে নারী সমাজের উন্নয়ন। নারীর এগিয়ে চলার পথ কীভাবে বুনন হলো কীভাবে নারীরা বাধা পেরিয়ে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসছে তা নিয়ে বক্তারা সাফল্য তুলে ধরলেন। নারীরা এগিয়ে চলার পেছনের রূপকার হিসেবে অভিনন্দন জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।
বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান বাফুফেকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘উনাদেরকে (বাফুফে) অভিনন্দন জানাই কারণ উনাদের মেমরিতে এসেছে বঙ্গমাতাকে নিয়ে টুর্নামেন্টে আয়োজন করার। উইমেন এম্পাওয়ারমেন্টের যে কথাগুলো এখানে বলা হচ্ছে এই টুর্নামেন্ট তারই একটা উদাহরণ। এই টুর্নামেন্ট পৃথিবীকে একটা ম্যাসেজ দিচ্ছে এদেশে নারী কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মহিলা খেলোয়াড়দের উত্সাহ দেওয়া। আমরা এত দিন পর তার নামে (বঙ্গমাতা) একটা টুর্নামেন্ট করতে পারছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধু বেশির ভাগ সময় জেলে থাকতেন। আমরা শেখ কামালের বন্ধু ছিলাম। কামালের বন্ধু বলে নয়। বঙ্গমাতা আমাদেরকেও ছেলের মতোই দেখতেন। রান্না করে খাওয়াতেন। উনারা শত, দক্ষ এবং দেশপ্রেমিক ছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সেটা পেয়েছেন।’ বিভিন্ন শ্রেণি পেশায় নারীর নেতৃত্ব, অগ্রযাত্রা এবং নারীর ক্ষমতায়নের উদাহরণ দিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আজ এসব সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। উইমেন এম্পাওয়ারমেন্টে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। উনি (প্রধানমন্ত্রী) মহিলাদের জন যতকিছু করেছেন পঞ্চাশ বছরেও তা কেউ করেনি। আমার মনে হয় বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট সঠিক সময়েই হচ্ছে।’
প্রথাগত নিয়মে না গিয়ে এবার ভিন্ন আঙ্গিকে লোগো উন্মোচন করা হয়। পুরো মঞ্চটা এলইডি জায়ান্ট স্ক্রীনে ভেসে উঠে লাওসের পতাকা। লাওসের শিক্ষা সংস্কৃতি তাদের ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয় কয়েক মিনিটের পারফরম্যান্সে। নারী পুরুষ লাওসের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে তাদের জনপ্রিয় সংগীতের তালে নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এভাবে ছয় দেশের পতাকা ভেসে উঠে। আর সেইসব দেশের জাতীয় পোশাকে শিল্লীরা সংগীতের সুরে সুরে ভাসিয়ে নিয়ে গেছেন উপস্থিত দর্শক, অতিথি, কোচ ফুটবলার, ক্লাব কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি অতিথিদের। ছয় দেশের পরিবেশনা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে চমক দিয়ে মঞ্চের পেছনে এলইডি জায়ান্ট স্ক্রীনে টুর্নামেন্টের লোগো ভেসে উঠে। লোগোর মাঝখানে শোভা পায় বঙ্গমাতার মুখচ্ছবি। রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেলে লোগো উন্মোচনের পর গ্রুপিং, ফিকশ্চার ড্রয়ের পর থীম সং পরিবেশন করেন মমতাজ বেগম, পড়শী, কণাসহ অন্যান্য কণ্ঠশিল্লীরা। টুর্নামেন্টের স্বত্ব ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান কে-স্পোর্টসের আয়োজনে পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ভারতীয় মডেল অর্চনা।
গ্রুপিং
‘এ’ গ্রুপ : মঙ্গোলিয়া, তাজিকিস্তান, লাওস
‘বি’ গ্রুপ : আরব আমিরাত, বাংলাদেশ, কিরগিজস্তান।