মো. রমজান সিকদার, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপ ১৮ মার্চ নির্বাচনে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের ভোট গ্রহণ। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্ঘুম প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রার্থীরা। সকাল হতে গভীর রাত পযর্ন্ত চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিসপাড়া, রাস্তাঘাটে, বিভিন্ন হাটে-বাজারে, স্কুল মাঠে সর্বত্র চলছে প্রার্থীদের জমজমাট প্রচার প্রচারণা। এ ছাড়াও থ্রি হুইলারে মাইকে বিভিন্ন ধরনের গান বাজনার মাধ্যমে চলছে প্রচার। গাছে গাছে ব্যানার ফেস্টুন, পোস্টারে ছেয়ে গেছে সমগ্র উপজেলার শহর গ্রাম হতে পাড়া মহল্লায়। বর্তমান সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ সমর্থিত প্রার্থী থাকায় জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার।
এবারে চেয়ারম্যান পদে চারজন, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে দুইজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে ফরিদপুর-৪ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের সর্মথন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতিকে এসএম হাবিবুর রহমান, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকে জাকির হোসেন মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোড়া প্রতিকে শাহাদাত্ হোসেন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দোয়াত কলম প্রতিকে কাজী হেদায়েত উল্লাহ সাকলাইন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে উড়োজাহাজ প্রতিকে মাওলানা ইসাহাক মোল্লা ও তালাচাবি প্রতিকে ওবায়দুর রহমান মামুন খন্দকার। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কলস প্রতিকে সালমা বেগম ও ফুটবল প্রতিকে পারুলী আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সারাদেশের প্রেক্ষাপটের তুলনায় ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের নির্বাচন একটু ব্যতিক্রমী হতে পারে। এই আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী তার ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পর পর দুইবার পরাজিত করেন। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা-কর্মী গত ৫ বছর ধরেই নিক্সন চৌধুরীর সাথে রয়েছেন। এ কারণে সংসদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর দেওয়া প্রার্থীর সাথে কাজী জাফরউল্লাহর দেওয়া প্রার্থী জয়ী হতে পারেনি।
এসএম হাবিবুর রহমান বলেন, আমি জনগণকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, ভোট তাদের পবিত্র আমানত, তাদের ভবিষ্যত্ ও তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল হয় এবং সমাজ থেকে মাদক-সন্ত্রাস নির্মুল করতে পারে এমন ব্যক্তিকেই ভোট দিতে। আগামী পাঁচ বছর সাংসদ হিসাবে নিক্সন চৌধুরী থাকবেন। একই সাথে তার সমর্থিত প্রার্থীকে যদি এবারেও বিজয়ী করা যায় তবে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। যেমনটি গত পাঁচ বছর সংসদ সদস্য ও তার সমর্থিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি প্রতিটি জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি এবং তাদের বোঝাতে কিছুটা হলেও সক্ষম হচ্ছি। আশাকরি ভোটের পরিবেশ যেভাবে আছে সেভাবে থাকলে আমি বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ।
অপরদিকে প্রচারে পিছিয়ে নেই বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত্ হোসেন যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ঘোড়া প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বলেন, গত ৫ বছর আমি জনগণকে সেবা দিয়েছি। আশাকরি জনগণ আমাকে মূল্যায়ন করে পুনরায় বিজয়ী করবেন।
এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী নৌকা প্রতিকে জাকির হোসেন মিয়া তার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সিংহ ভাগ নেতা-কর্মী ইতোপূর্বে সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করায় বেশ কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে তাকে।
তা ছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দোয়াত কলম প্রতিক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। এতকিছু সত্ত্বেও তিনি আশা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্ত করতে নৌকা প্রতিকে জনগণ ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করবেন।