চন্দিকা হাতুরুসিংহের অধীনে গত বছর প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ দল। এ বছরটা বাংলাদেশের পাশাপাশি কোচের জন্যও চ্যালেঞ্জ, কারণ ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করলেও টি-টোয়েন্টির ফর্মেটে সেভাবে এগুতে পারেনি। অথচ এ বছরের শুরুতেই রয়েছে এশিয়া কাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রতিযোগিতা। এ জন্যই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগামীকাল শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া হোম সিরিজে খেলোয়াড়দের পরখ করে নিতে চান হাতুরুসিংহে।
বাংলাদেশ দলের কোচ এমনটি জানিয়ে গতকাল খুলনায় বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি, জয়ের জন্যেই খেলব। যদিও আমরা আমাদের সেরা কম্বিনেশন এ সিরিজে নির্ধারণ করতে চাই। একই সময়ে ক্রিকেটারদের ভূমিকা বুঝতে সময় দিতে চাই। চলতি সিরিজে এদিকেই ফোকাস থাকবে আমাদের।’
জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ দল চার ম্যাচের টি টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিতে এখন খুলনায়। গতকাল খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে অনুশীলনের আগে কোচ বলেন, ‘ওয়ানডে আমাদের কম্বিনেশন তৈরি করতে পেরেছি। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে পারিনি। কম্বিনেশনের পাশাপাশি সঠিক গেমপ্ল্যানও বুঝতে হবে, এটা আমাদের জন্যে চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। এ জন্য ব্যাটসম্যানদের বুঝতে হবে এবং তাদের নিজস্ব ভূমিকা পালন করতে পারে।’
কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারের জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া প্রসঙ্গে শ্রীলঙ্কান সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, ‘তারা তাদের প্রতিভা দেখিয়ে দলে জায়গা পেয়েছে। তারা সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) ভালো পারফর্ম করেছে। ‘এ’ দলের জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও তারা ভালো করেছে। নুরুল (নুরুল হাসান সোহান) তার বিস্ফোরক ব্যাটিং ও কিপিংয়ের কারণে জায়গা পেয়েছে। সবাই তার উইকেট কিপিং নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে এরই মধ্যে।’
জিম্বাবুয়ে সিরিজে শুভাগত হোমকে দলে নেয়ার ব্যাপারে কোচ বলেন, তার স্ট্রাইক রেট বেশ ভালো। ৭ কিংবা ৮ নম্বরে যারা ব্যাটিংয়ে আসে তারা টি-টোয়েন্টিতে ৬০ বল খেলবে এটা চিন্তা করা যায় না। দলের অন্যান্য ব্যাটসম্যানরা যদি ভালো করে তাহলে ১০-১৫ বল খেলার সুযোগ পাবে। এ জন্য তাকে নেয়া হয়েছে। এছাড়া ভালো বোলিং ও ফিল্ডিং করার দক্ষতাও তার রয়েছে। তার সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়ার জন্যে তাকে এ সিরিজে সুযোগ দেয়া হয়েছে।
জাতীয় দলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমের জন্য জায়গা উন্মুক্ত জানিয়ে হাতুরুসিংহে বলেন, ‘তাদের জায়গাটা উন্মুক্ত। তারা দলের সিনিয়র ক্রিকেটার। অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন সব সময়ই করা হয়। যদি খেয়াল করেন, তাহলে দেখবেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা ভালো করে। এ সিরিজে ভিন্ন কম্বিনেশন খুঁজে বের করা হবে। এশিয়া কাপে আমরা সেরা কম্বিনেশন জানতে পারব। আমি ব্যাটিং পজিশন নিয়ে এখানে কথা বলতে চাচ্ছি না। কারণ প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় নিজেকে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ পাবে। আমরা সবার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। যদি কম্বিনেশনের দিক থেকে বলি, আমরা এ সিরিজে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করবো। আমরা এখনো জয়ের জন্যে খেলব। তবে সঠিক কম্বিনেশন পেতে আমরা পরীক্ষাও চালাবো। আরো উন্নতি করতে হাবে জানিয়ে কোচ বলেন, ‘বিপিএলের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখার সুযোগ হয়েছে কিন্তু আমাদের কিছু জায়গার পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট নই। যদিও অনেকেই অজুহাত দেখাচ্ছে, যেমন উইকেট নিয়ে কথা বলছে।