হোসাইনী দালানে ‘বোমা হামলাকারী’ গ্রেফতার

রাজধানীর হাজারীবাগে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্দেহভাজন দুই জঙ্গি নেতা নিহতের আগে যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়, তাদের একজন হোসাইনী দালানে বোমা হামলাকারী বলে পুলিশ দাবি করেছে।
 
আশুরায় পুরান ঢাকায় শিয়াদের সমাবেশে বোমা হামলা চালিয়ে দুজনকে হত্যার তিন মাস পর বুধবার রাতে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের নিয়ে অভিযান চালানোর সময় হাজারীবাগে শিকদার মেডিকেল কলেজের কাছে  বন্দুকযুদ্ধে দুইজন মারা যান।
 
এই ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কামরাঙ্গীরচর থেকে মো. আরমান, জাহিদ হাসান রানা ওরফে মুসহাব এবং নূর মোহাম্মদ ওরফে ল্যাংড়া মাস্টার নামের তিন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
 
এর মধ্যে রানা হোসাইনী দালানে শিয়া সমাবেশে হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল বলে জানান গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্মকমিশনার মনিরুল ইসলাম।
 
সরাসরি হামলায় না থাকলেও আরমান সক্রিয়ভাবে হামলাকারীদের সহায়তা করেছিল বলে এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান। গ্রেফতার অন্যজন নূর মোহাম্মদের সাভারের বাড়িতে জেএমবি সদস্যরা প্রায়ই সভা করত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
 
গত বছরের ২৪ অক্টোবর রাতে আশুরায় শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় হোসাইনী দালানের ইমামবাড়ায় বোমা হামলা হয়। এতে একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেকজন।
 
হোসাইনী দালানে বোমা হামলায় ‘জড়িত’ আলবানী ওরফে হোজ্জা ওরফে মাহফুজ গত বছরের শেষ দিকে ঢাকার দারুস সালাম এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, মাহফুজ ছিলেন নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির সামরিক শাখার কমান্ডার।
 
বুধবার হাজারীবাগে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতদের একজন কামাল ওরফে হিরন আগে নিহত মাহফুজের দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুলের দাবি।
 
ঢাকার গাবতলীতে তল্লাশি চৌকিতে ছুরিকাঘাতে এএসআই ইব্রাহিম মোল্লা হত্যাকাণ্ডেও হিরন জড়িত ছিলেন বলে অভিযানের সময় গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ছানোয়ার হোসেন জানিয়েছিলেন। হিরন হোসাইনী দালানে বোমাহামলায়ও জড়িত ছিলেন বলে জানান মনিরুল।
 
 
গোয়েন্দা কর্মকর্তা ছানোয়ার বলেছিলেন, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কামরাঙ্গীরচর থেকে তিন জঙ্গিকে ধরার পর তাদের নিয়ে অভিযানে নেমেছিলেন তারা। তখন ‘বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন নোমান ও হিরন।
 
তিনি বলেন, তিন জঙ্গিকে নিয়ে ডিবির দুটি টিম অভিযান চালাচ্ছিল। রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি কালো মোটরসাইকেলে দুজনকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় তারা ধাওয়া করে। এ সময় তারা শিকদার মেডিকেলের কাছে মেডি ডেন্টাল কেয়ারের ৩ নম্বর রোডে ঢুকে পড়ে। সেখানে মোটরসাইকেল রেখে পাশের মাঠে গিয়ে গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। নোমান ও হিরন পুলিশের উপর বোমা ও ‘লোকাল গ্রেনেড’ছুড়েছিল। এক পর্যায়ে তাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের কাছ থেকে গুলিভর্তি দুটি বন্দুক, একটি চাকু ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।