মুদ্রানীতি ঘিরে পুঁজিবাজার চাঙ্গা

 
চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের শেষ ছয় মাসের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিকে ঘিরে পুঁজিবাজারে গত কয়েকদিন ধরেই লেনদেনে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। একইসঙ্গে বেড়েছে সার্বিক মূল্য সূচক। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত দুই সপ্তাহ ধরেই শেয়ারবাজারের লেনদেনে গতি ফিরতে শুরু করেছে। গেল সপ্তাহ টানা ৪ কর্মদিবস ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬০০ কোটি টাকার বেশি। বুধবার লেনদেন বেড়ে সাতশ কোটি টাকায় উঠে আসে। বৃহস্পতিবারও লেনদেন হয়েছে ৬৯২ কোটি টাকা। একইসঙ্গে সার্বিক মূল্য সূচক বেড়েছে প্রায় ৯ পয়েন্ট।
 
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুদ্রানীতি ঘিরে পুঁজিবাজারে চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের জন্য নেতিবাচক কিছু আসছে না, এমন প্রত্যাশার কারণেই বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হয়ে বিনিয়োগ করছেন। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারের দিকে সরকারের ইতিবাচক প্রবণতার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। যা বাজারের জন্য আশাব্যঞ্জক। এমন পরিস্থিতিতে মুদ্রানীতিতেও বাজারের জন্য নেতিবাচক কিছু থাকবে না বলেই তাদের প্রত্যাশা। এজন্যই বাজারে লেনদেন বেড়েছে।
 
এদিকে আজ বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের জন্য যথেষ্ট প্রণোদনা রয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল। তিনি বলেন, নীতি সুদহার বলে পরিচিত রেপো ও রিভার্স রেপোর হার কমানোর ফলে শেয়ারবাজার চাঙ্গা হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিরূপাক্ষ পাল আরো বলেন, শেয়ারবাজারের দায়-দায়িত্ব সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেয় না। ওয়াল স্ট্রিটের দায়িত্ব ফেডারেল রিজার্ভ নেয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি শেয়ারবাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করে। তাই তা বিবেচনা করেই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের নীতিগুলো শেয়ারবাজারকে উজ্জীবিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।
 
মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, কিছুদিন আগে মিউচুয়াল ফান্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগের প্রভিশন সংরক্ষণ নীতিমালা সহজ করা হয়েছে। এতে বাজারে স্বাচ্ছন্দ্যভাব ফিরে এসেছে। তাছাড়া বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল বা সমজাতীয় তহবিলে ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসাব থেকে আলাদা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত মূলধনী ঋণ পুঁজিবাজার বিনিয়োগের হিসাবায়নের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এর ফলে পুঁজিবাজার ব্যাংকের বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ তিনটি সুবিধা দেয়ার ফলে আগামী জুনের মধ্যে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমার মধ্যে নিয়ে আসার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। দুয়েকটি ব্যাংক ছাড়া বাকিগুলোর বিনিয়োগ জুনের মধ্যেই নির্ধারিত সীমায় চলে আসছে। একই সাথে ব্যাংকের নতুন বিনিয়োগের সুযোগও  তৈরি হয়েছে। এসব মিলিয়ে এ মুদ্রানীতিকে পুঁজিবাজার বান্ধব বলা যায়।