উত্তর কোরিয়ার কূটনীতি খুবই সচল আছে :যুক্তরাষ্ট্র

রয়টার্স

উত্তর কোরিয়া বিষয়ক মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিবিদ স্টিফেন বিগান বলেছেন, গতমাসের ট্রাম্প-কিম ব্যর্থ বৈঠক সত্ত্বেও দুই দেশের কূটনৈতিক তত্পরতা খুবই সচল আছে। তবে তিনি সতর্ক করেন উত্তর কোরিয়ায় একটি রকেট উেক্ষপণ কেন্দ্রে তত্পরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে উত্তর কোরিয়ার সোহা রকেট উেক্ষপণ কেন্দ্রের পুনর্গঠন লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন কূটনীতিবিদ স্টিফেন বিগান বলেন, হ্যানয়ের শীর্ষ সন্মেলনের পরেও বড় ধরনের মতভেদ রয়ে গেছে। উত্তর কোরিয়ার প্রমাণ করা উচিত ছিল যে- তারা পরমাণু কর্মসূচি পুরাপুরি বাদ দিতে চায়। বিগান বলেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বলবত্ থাকবে। উত্তর কোরিয়া এই নিষেধাজ্ঞা আস্তে আস্তে শিথিল করার দাবি করেছিল। বিগান বলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র তৈরির সুযোগ তৈরি হবে। ধারণা করা হচ্ছে- সোহা রকেট উেক্ষপণ কেন্দ্রকে রকেট উেক্ষপণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

২০১৭ সাল থেকে মিসাইল ও পরমাণু পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে উত্তর কোরিয়া। ট্রাম্প একে কূটনৈতিক তত্পরতার ফল বলে দাবি করছেন। তিনি বলেন, সোহাতে কি করতে চাচ্ছে উত্তর কোরিয়া তা নিশ্চিত নয় ওয়াশিংটন তবে সেখানে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে বলা হয়েছে- উত্তর কোরিয়া হয়ত বোঝাতে চাচ্ছে মিসাইল পরীক্ষার ক্ষমতা এখনো তাদের আছে। দেশটি পরীক্ষা আবার শুরু করলে খুবই হতাশ হবে ট্রাম্প প্রশাসন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার দুই দিনব্যাপী আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে ট্রাম্প এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে এবং এই মুহূর্তে আবার দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, উত্তর কোরিয়ার অগুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে মোতায়েন পরমাণু অস্ত্রগুলো ধ্বংস করার কাজ শুরু করার বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার যে প্রস্তাব পিয়ংইয়ং দিয়েছিল তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত এ শীর্ষ বৈঠক এমন সময় ব্যর্থ হলো যখন এর আগে মার্কিন সূত্রগুলো বলেছিল, এ বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে এবং পরবর্তী শীর্ষ বৈঠকের তারিখও নির্ধারিত হবে; কিন্তু বাস্তবে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় বোঝা গেল, আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়া যত বেশি বিষয়বস্তুর গভীরে ঢুকতে চেয়েছে তাদের মধ্যে মতবিরোধ তত বেশি তীব্র হয়ে উঠেছে।