ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত রবিবার

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় দিন আজ।  গোটা ইজতেমাস্থল টঙ্গীতে দেশ-বিদেশের মুসল্লিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে। আল্লাহ প্রদত্ত বিধি-বিধান ও রাসুল (স.) প্রদর্শিত তরিকা অনুযায়ী জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির জিকির আসকার, ইবাদত বন্দেগী আর পবিত্র কোরআনের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হচ্ছে। 
 
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে তাবলিগ জামাত আয়োজিত ৫১তম বিশ্ব ইজতেমার শেষ পর্ব।  ইজতেমা ময়দানের বিদেশি নিবাসের পূর্ব পাশে বিশেষভাবে স্থাপিত মোনাজাত মঞ্চ থেকে এ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।  এতে প্রায় ৩০ লাখ মুসল্লি অংশ নেবেন বলে ইজতেমার আয়োজকরা ধারণা করছে।
 
শুক্রবার ভোর থেকে এশা পর্যন্ত ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা উপ মহাদেশের বিশিষ্ট আলেমদের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান শুনেছে।  আজ বাদ ফজর থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো বয়ান শুরু হয়েছে।  বাদ ফজর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা মুহাম্মদ খোরশেদ।  বাদ জোহর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা মুহাম্মদ ফারুক, বাদ আছর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ ও বাদ মাগরিব বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা মুহাম্মদ শওকত আলী।
 
যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ
ইজতেমার আখেরী মোনাজাত উপলক্ষে মুসল্লিদের সুবিধার্থে শনিবার বিকাল থেকেই ওই এলাকায় যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।  রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।  এবারের বিশ্ব ইজতেমায় উল্লেখ যোগ্য দিক রয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।  প্রায় ৬ হাজার র‌্যাব ও পোশাকধারী পুলিশের পাশপাশি রয়েছে সাদা পোশাকে কয়েক হাজার গোয়েন্দা সদস্য। আকাশ ও নৌপথে রয়েছে র‌্যাবের সতর্ক নজরদারি। 
 
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, স্থান সংকুলানসহ বিশ্ব ইজতেমায় অংশ গ্রহণকারীদের বিভিন্ন অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ২০১১ সাল থেকে দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হচ্ছে।  এবারই প্রথম দেশের ৩২টি জেলা দুই পর্বে ইজতেমায় অংশ নিচ্ছে।  বাকি ৩২ জেলার মুসল্লির আগামি বছর ইজতেমায় অংশ নেবেন।  যারা প্রথম পর্বে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেবেন তারা দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিতে পারবে না।  ১৭ জানুয়ারি আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ইজতেমার সব পর্ব।
 
তাশকিলের কামরা স্থাপন
ইজতেমার প্যান্ডেলের উত্তর-পশ্চিমে তাশকিলের কামরা স্থাপন করা হয়েছে।  বিভিন্ন খিত্তা থেকে বিভিন্ন মেয়াদে চিল্লায় অংশ গ্রহণে ইচ্ছুক মুসল্লিদের এ কামরায় আনা হচ্ছে এবং তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।  পরে কাকরাইলের মসজিদের তাবলিগি মুরুব্বীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ি এলাকা ভাগ করে তাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাবলিগি কাজে পাঠনো হবে।
 
মিডিয়া সেন্টার স্থাপন
বিশ্ব ইজতেমায় এবারই প্রথম সাংবাদিকদের জন্য মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।  গাজীপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ পিপিএম-এর উদ্যোগে  জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সংলগ্ন স্থাপিত মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের কাজের সুবিধার জন্য টেলিফোন, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। 
 
এক বিদেশিসহ তিন মুসল্লির ইন্তেকাল
টঙ্গীর বিশ্বইজতেমার দ্বিতীয় ধাপে যোগ দিতে আসা এক মালয়েশিয়ার নাগরিকসহ তিন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।  তারা হলেন মালয়েশিয়ার নাগরিক শাহিদান ইব্রাহিম (৪৮), জামালপুর সদর উপজেলার কাচারিপাড়া এলাকার আবুল কাশেম (৬৫) ও বগুড়ার গাবতলি থানার মাঝবাড়ি এলাকার আব্দুর রহমান (৬০)। 
 
ইজতেমা ইতিহাস
ইজতেমার মুরুব্বীদের দেয়া তথ্য মতে, ১৯৪৬ সালে প্রথম কাকরাইল মসজিদে ইজতেমার আয়োজন শুরু করা হয়।  তারপর ১৯৪৮সালে চট্টগ্রামের হাজী ক্যাম্পে ও ১৯৫৮সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।  এরপর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৬৬ সালে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বর্তমানস্থলে স্থানান্তর করা হয়েছে।  পরে সরকারি ভাবে তুরাগ তীরের ১৬০একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়।