নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটী ইউনিয়নের দুটি গ্রামে ‘মেনিনজো কক্কাস মেনিনজাইটিস’ রোগে (ভাইরাল ইনফেকশনে) আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের দুই শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার জামসেন গ্রামের হাশেম উদ্দিনের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া মারুফা আক্তার (১০) মারা যায়।
এই রোগে মৃতরা হলেন- রবন খাঁ (৭২), ফজলুল হক (৪৫), ফৌজদার মিয়ার মেয়ে মাসুদা আক্তার (১৩) ও ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫)।
নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. বিজন কান্তি সরকার মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন। শনিবার দুপুরে তিনি জানান, ঢাকার মহাখালী আইসিডিইআর থেকে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মেডিকেল টিম আজ নেত্রকোনার কলমাকান্দায় গিয়েছে। তারা রোগের কারণ উদঘাটন করে রিপোর্ট প্রদান করবে। তবে শুক্রবারের পর আর কেউ এ রোগে মারা যায়নি বলে জানান তিনি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ৮-১০ দিন আগে কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটী ইউনিয়নের জামসেন গ্রামে রবন খাঁ’র (৭২) শরীরে হঠাৎ করে ফুসকা পড়া মতো রোগ দেখা দেয়। দেখতে দেখতে আশপাশের বাড়িতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে হাসিম উদ্দিনের ছেলে অলিউল্লাহ (৭), আলাল উদ্দিনের ছেলে আরিফ বিল্লাহ (৮ মাস), মুক্তার উদ্দিনের ছেলে সোহরাব মিয়া (১০), রবন খার ছেলে নূর ইসলাম (৮), নয়ন মিয়ার ছেলে সাগর (৮), জাকিয়া (২) ও তাদের মা হলুদা আক্তার (৩০), আবু তাহেরের মেয়ে হীরা মনি (৬), তার বোন নীলা মনি (৪), কালাম মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া (৬), মুক্তা আক্তার (৮), রেখা আক্তার (২১), রুখসানাসহ (১০) বিভিন্ন বয়সের ১৬ জন।
রোগটি দ্রুত পার্শ্ববর্তী নাওরীপাড়া-বরুণখিলা গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। খলিল মিয়ার ছেলে সুলতান মিয়া (৩১) এ রোগে আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া গেছে।
নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. বিজন কান্তি সরকার বলেন, 'এলাকায় নেত্রকোনা থেকেও মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে এবং তারা কাজ করছেন। আতঙ্কিত হবার কোনো কারণ নেই। '