সেমিফাইনালে উঠলেও ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা শুনতে হচ্ছে। কোচ মারুফুল হক তার মেধার সবটুকু ঢেলে দিয়েও পরিশ্রমের সুফল পাচ্ছেন না। যতটা বীজ বুনছেন ততটা ফসল পাচ্ছেন না। তিনি যেন সাফের উনুন থেকে বঙ্গবন্ধু কাপের আগুনে এসে পড়েছেন। ফুটবলারদের যা শেখাচ্ছেন তার প্রতিফলন পাচ্ছে না। মাঠে গিয়ে দর্শক হতাশ হচ্ছেন। দর্শক খেলা বুঝেন। খেলা পর্যালোচনা করতে পারছেন। প্রতিপক্ষ সম্পর্কেও ধারণা পেয়ে যাচ্ছেন। অংকের সব কাটাকাটি শেষে পারফরম্যান্সের গ্রাফটা উপরের দিকে দেখছেন না। কথা শুনতে হচ্ছে খেলোয়াড়দের।
অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম সেটা বুঝতে পারছেন। বাহরাইনের বিরুদ্ধে আজ সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মামুনুল ইসলাম বলেই ফেললেন তারা চাপ নিয়ে খেলছেন। বলছিলেন, ‘সবদিক থেকে প্রেসারে রয়েছি। শুধু মাত্র সালাহউদ্দিন ভাই আমাদের পাশে রয়েছেন। আমরা ভালো খেলছি। খেলা ভালো হচ্ছে না বলে কথা শুনতে হচ্ছে। আসলে আমাদের খেলার উন্নতি হচ্ছে।’
বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবলের শুরুতে বাংলাদেশ খেলোয়াড়, কোচ বলেছিলেন প্রথম ম্যাচটা জিতে সেমিফাইনালের কথা ভাবতে চাই। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে যশোর থেকে শুরু করেছিল। ঢাকায় দ্বিতীয় ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করেছে। অন্য গ্রুপে শ্রীলঙ্কা ম্যাচ জেতায় বাংলাদেশ এক ম্যাচ হাতে রেখে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। নেপালের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচ গোল শূন্য ড্র করে বাংলাদেশ। তাই বলে নিজেদের খাটো করে দেখার কারণ দেখছে না ফুটবল দল।
কোচ মারুফুল মনে করেন এটা গ্রুপিংয়ের কারণে হয়েছে। সেমিফাইনালের টিকিট হাতে, সেটাই বড় কথা। এখন সেমিফাইনাল ম্যাচ টপকে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে ফুটবল দল। লঙ্কানদের বিরুদ্ধে গোল পেলেও বাকি দুই ম্যাচে স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতা চোখে লেগেছে। স্ট্রাইকার রনি, জীবন দেখাতে পারছেন তাদের দক্ষতা। মামুনুল বলছেন, ‘সুযোগ পেলে সেটা দ্রুত ফিনিশ করতে হবে।’ স্ট্রাইকারদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। কিন্তু মামুনুল ইসলাম কর্নার স্পেশালিস্ট হয়েও সেটপিস থেকে বলটা জায়গায় ফেলতে পারছেন না। সেটা কি হবে? মামুনুল যেটা বললেন সেটা প্রতিপক্ষকেই উপরে রাখলেন। তারপরও শেষ কথা হচ্ছে জয় নিয়ে ফিরতে চান। প্রতিপক্ষ বাহরাইন যশোরে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকেও ড্র করেছিল ১-১ ব্যবধানে। বাহারাইনকে যেমনটা ভাবা হয়েছিল মাঠের লড়াইয়ে তারা সেরকম না হলেও তিন ম্যাচ খেলে পরিবর্তন দেখিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। অনেকটা তরুণ দল হলেও মামুনুলরা সেটা মানতে নারাজ। তারা বললেন আমাদের দলেও ২২, ২৩ বছরের খেলোয়াড় রয়েছে। বাহরাইনকে সম্মান দিচ্ছে কোচ মারুফুল হক। তিনি বলছেন, ‘নেপালের বিরুদ্ধে আমরা গোল খাইনি। এটা একটা ভালো দিক। অন্যদিকে গোলও করতে পারিনি সেটাও একটা খারাপ দিক।’
বাংলাদেশ ফুটবল দল আজ সেমিফাইনালে বাহরাইনকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মনে করেই মাঠে নামবে। কোচ মারুফুল সেটাই জানিয়েছেন। ‘দুর্বল দল কখনো সেমিফাইনালে আসে না— বললেন মারুফুল হক। তার মতে, দুই দলের মধ্যে ভালো লড়াই হবে আজ। যারা পুরো শক্তি নিয়োগ করতে পারবে তারাই জিতবে। নিজের সমর্থক, নিজের মাঠে মামুনুলরা ফায়দা তুলে নিতে চান। চাপে থাকবে প্রতিপক্ষ বাহারাইন। কিন্তু বাহরাইন কোচ মারজান ইদ বলছেন উল্টো কথা। ঘরের মাঠে বাংলাদেশই নাকি চাপে থাকবে। মামুনুলদের খেলা না দেখলেও কোচ মারজান বললেন, ‘ওপেন গেম হবে। কঠিন ম্যাচ হবে।’ নামে বাহরাইন হলেও এটি তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল খেলছে টুর্নামেন্ট। যে দল যেমনই হোক। মাঠের লড়াইয়ে আজ ফাইনালের উত্তাপ থাকবে সেটা জানিয়ে গেছেন বাংলাদেশ এবং বাহারাইন কোচ। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হবে ৫টা ৩০ মিনিটে।