বাবা ছিলেন গোলরক্ষক, ছেলেটাও তাই ‘রক্ষণ’ই শিখলো। তবে উইকেটরক্ষণ। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পরও মনে হলো, এটা খুব বিরক্তিকর একটা কাজ। এর চেয়ে পেস বোলিং করা ভালো। লম্বা-চওড়া শরীর নিয়ে ফার্স্ট বোলারই হতো ছেলেটা। কিন্তু প্রয়াত স্পিনার ও কোচ শেখ সালাউদ্দিনের একটা কথা বদলে দিলো জীবনটা—ভালো উইকেটরক্ষক হলে গিলক্রিস্ট হওয়া যায়, খারাপ বোলার হয়ে লাভ নেই।
ব্যস, আবার উইকেটরক্ষক হয়ে গেলো ছেলেটি। হ্যাঁ, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের নবাগত উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের গল্প করছিলাম।
বাংলাদেশ জাতীয় দলে এখন খুলনা বিভাগের খেলোয়াড়ের ছড়াছড়ি। মাশরাফি, সাকিব, ইমরুল, সৌম্য, মুস্তাফিজ; ঢের খেলোয়াড়। কিন্তু একটা মজার ব্যাপার হলো, সেই মানজারুল ইসলাম রানার পর থেকে জাতীয় দলে আর কোনো খুলনা শহরের ছেলে ছিলো না। অবশেষে সেই অভাবটা মেটালেন সোহান। সোহানকে শুধু খুলনার ছেলে বললে কম বলা হবে। শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামটা জায়গার হিসেবে খুলনার খালিশপুর এলাকায়। আর এর পাশের এলাকাই হলো দৌলতপুর। স্টেডিয়াম থেকে ঢিল ছোঁড়া সেই দূরত্বে সোহানের বাড়ি। বড় হয়ে উঠেছেন এই স্টেডিয়াম এলাকাতেই।
বাবা সান্নু ছিলেন ঢাকা লিগের বেশ নামকরা গোলরক্ষক। খেলেছেন আরামবাগ, ব্রাদার্সের মতো দলে। পরে খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাও ছিলেন। বাবাই ছেলের ক্রিকেটে দারুণ আগ্রহ দেখে ভর্তি করে দিলেন ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে। সেখান থেকে ঢাকার ক্রিকেট খুঁজে পেতেও কষ্ট হলো না। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বাছাইতে গিয়ে পরপর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করার পর সোজা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাম্পে ডাক চলে এলো। এরপর সোহানকে আর খুব একটা পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
ব্যাট হাতে বেশ ঝড় তুলতে পারেন। তবে গত কয়েকটা মৌসুম তাকে আলোচনায় রেখেছে উইকেটরক্ষক হিসেবে ধারাবাহিকতা। পৃথিবী থেকেই উইকেটরক্ষকদের যুগ নাকি শেষ হয়ে ‘ব্যাটসম্যান-কাম স্টপার’-এর যুগ শুরু হয়েছে। কিন্তু সোহান হতে চান খাঁটি উইকেটরক্ষক। রোল মডেল তার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। শর্টার ফরম্যাটে অন্তত জায়গাটাও পেয়েছেন সেই একইরকম। সাত নম্বরে ব্যাটিং আর উইকেটে কিপিং। সোহানকে নিয়ে আশাবাদ আছে সবারই। খোদ কোচ-অধিনায়কই দারুণ আশাবাদী এই দীর্ঘদেহী অলরাউন্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এখন অপেক্ষা একটাই—সোহান নিজে নিজেকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন!