নরসিংদী জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি চাঞ্চল্যকর হাজি সেলিম হত্যা মামলার জট খুলতে শুরু করেছে। ঘটনার পাঁচ মাসের মাথায় তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গ্রেফতার রাজিব নরসিংদী শহরের ব্রাহ্মন্দী খালপাড় এলাকার বাসিন্দা সুন্দর আলীর পুত্র এবং রেখা বেগম নিহত সেলিম মিয়ার দ্বিতীয় পুত্রবধূ। মাত্র তিন লাখ টাকা চুক্তির ভিত্তিতে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, নিহত হাজী সেলিম মিয়া নরসিংদী জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি ছিলেন। পারিবারিক কলহের কারণে ডা. সেলিমের সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। ডা. সেলিম দ্বিতীয় বিয়ে করে ঘর সংসার করতে থাকেন। দ্বিতীয় সংসারে তার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এতে প্রথম সংসারের পুত্ররা তার প্রতি মারাত্মকভাবে অসন্তুষ্ট হয়। হাজি সেলিমের বিশাল সম্পত্তি ভাগাভাগি হয়ে যাবে এই মানসিক যন্ত্রনায় হাজি সেলিমের দ্বিতীয় পুত্র আশরাফ অতিরিক্ত সেডিটিভ ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় আশরাফের স্ত্রী রেখা বেগম শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। খলিল নামে রেখার এক মামাও হাজি সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সবশেষে তার বড় ছেলে ডা. ইফতেখার আলমও পিতার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ব্যাপারে হাজি সেলিমকে দীর্ঘ দিন জেল খাটতে হয়। এসব ব্যাপারে হাজী সেলিমও তার স্ত্রী ও পুত্রের বিরুদ্ধেও মামলা করেন। জেল থেকে বের হবার পর তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এ ব্যাপারে তিনি নরসিংদী সদর মডেল থানায় কয়েকটি জিডিও দাখিল করেন। এ অবস্থায় ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট সন্ধ্যা রাতে ঘাতকরা তার ব্রাহ্মন্দীস্থ বাড়ির সামনে তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটির জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে। দীর্ঘ পাঁচ মাসের মাথায় শনিবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশ সুন্দর আলীর পুত্র রাজিব হোসেনকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে এবং এ হত্যায় তার পুত্রবধূ রেখা বেগমসহ আরো অনেকে জড়িত রয়েছে বলে পুলিশকে জানায়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওইদিন রাতেই গোয়েন্দা পুলিশ রেখা বেগমকে গ্রেফতার করে।