ইত্তেফাকের ৬৩ বছর

প্রীতি সম্মেলন পরিণত হয় মিলন মেলায়

দৈনিক ইত্তেফাকের ৬৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতি সম্মেলন আইনজীবী, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মেলায় পরিণত হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। এছাড়া তিন পেশার তিন বিশিষ্ট নাগরিক শুভেচ্ছা ভাষণ দেন। এরা হলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও প্রবীণ সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার।
IMG0
মতিয়া চৌধুরী বলেন, বাঙালি মধ্যবিত্তের যখন সংবাদপত্র পড়ার অভিলাষ হয় তখন আমি সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পড়া শুরু করি। তখন পার্সেলে করে জামালপুরের বাসায় পত্রিকাটি আসত। ইত্তেফাক পড়া আমার দৈনন্দিন কাজের অংশ হয়ে গেছে। সকালবেলা ইত্তেফাক সামনে না নিয়ে চা খেলে ভাল লাগে না। অন্য পত্রিকা যেটি ত্রিশ লাইনে লিখে ইত্তেফাক সেটি তিন লাইনে লিখতে পারে। লেখনির এই মুন্সিয়ানা সত্যিই বিরল ঘটনা। ইত্তেফাক যেমন সত্য বলে তেমনি নিজস্ব মতামতও প্রদান করে। আমি আশা করছি যতদিন ইত্তেফাক পড়ব, ততদিন পছন্দের জায়গাটি অমলিন থাকবে। স্বার্থকে না দেখে ইত্তেফাক মতাদর্শকে প্রাধান্য দেবে এমনটাই প্রত্যাশা আমার।
IMG1
গোলাম সারওয়ার বলেন, আমার সাংবাদিক জীবনের ২৭ বছর ইত্তেফাকে পার করেছি। সুখস্মৃতি কিংবা সুখকৃতীর বেশিরভাগই ইত্তেফাক ঘিরে। ইত্তেফাকের প্রতি আমার অদ্ভুত স্মৃতিকাতরতা রয়েছে। আমি আজীবন ইত্তেফাকের কাছে ঋণী। ইত্তেফাক প্রসঙ্গ আসলেই আমি আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু তরুণ বয়সে ইত্তেফাকের দায়িত্ব দেন। এই স্বপ্নদ্রষ্টা মানুষটি আগামী প্রজন্মের দিকে তাকাতে হবে তা তখনই ভেবেছিলেন। ৪০ বছর আগে তরুণদের জন্য পৃথক পাতা চালু করেছিলেন। বাংলাদেশে প্রথম পত্রিকার দ্বিতীয় সংস্করণ ইত্তেফাকই চালু করে।
IMG4
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইত্তেফাক বদলাচ্ছে। পত্রিকাটিকে আরও বদলাতে হবে। যদিও এটি বদলের প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছে। জনমানুষের পত্রিকা বলে ইত্তেফাকের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক। এই সময়ে আমাদেরকে শত্রুমিত্র চিনে পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
IMG2
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, ইত্তেফাকের কথা আসলেই আমার ৯ হাটখোলার কথা মনে পড়ে। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, আওয়ামী লীগের জন্ম হয় ৯ হাটখোলা থেকে।
IMG3
অনুষ্ঠানে তাসমিমা হোসেন বলেন, আজকে ইত্তেফাককে যারা শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন সবার প্রতি শুভকামনা। সবাইকে স্বাগতম। যারা এসেছেন তারা সবাই আমার অন্তরের ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আপনাদের শুভেচ্ছা ও দোয়ায় ইত্তেফাক আরও এগিয়ে যাবে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম বঙ্গবন্ধুর সেই ডাক এসব নিয়েই আমরা আরও দীর্ঘদিন চলতে পারব।