চট্টগ্রামে চিকিৎসক ধর্মঘটে বিপাকে রোগী ও স্বজনরা

তিন দিন ধরে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রামে বিপাকে পড়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেলে গিয়ে দেখা যায় অন্য সময়ের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অধিকাংশ ওয়ার্ডে স্থান সঙ্কুলান হচ্ছে না। মেঝেতে বেড ফেলে তাতে রোগী রাখা হয়েছে।
 
জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বুধবার জরুরি বিভাগ থেকে ৫৬০ রোগীকে ভর্তির জন্য পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৫৮০ জন। আর বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৬২০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
 
এর বাইরে বহির্বিভাগে প্রতিদিন আরও কয়েকশ রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। স্বাভাবিকের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। তারপরও চিকিৎসকরা আন্তরিকতার সঙ্গে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
 
বেসরকারি হাসপাতাল ‘সার্জিস্কোপে’ গত ১০ জানুয়ারি সন্তান জন্ম দিয়ে মারা যান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছোট ভাই খায়রুল বশরের মেয়ে মেহেরুন্নেসা রীমা (২৫)। চিকিৎসকের অবহেলায় রীমার মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ করে ওইদিন রাতে সার্জিস্কোপ হাসপাতাল ভাংচুর করে তার স্বজনরা।
 
রীমার বাবা খায়রুল বশর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামীমা সিদ্দিকী রোজি ও তার স্বামী মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগও করেন। আদালত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে পাঁচলাইশ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রামে প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও চেম্বার বন্ধ রেখে বুধবার থেকে ধর্মঘট চালিয়ে আসছে চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএর চট্টগ্রাম শাখা।