সেচ খরচ কমাতে নজর আউশে

বোরো উত্পাদন স্বাভাবিক রেখে এখন বর্ষা মৌসুমে আউশ ধানের উত্পাদন ও গবেষণার প্রতি নজর দিয়েছে কৃষি বিভাগ। সেচ খরচ ও সার্বিকভাবে পানির ব্যবহার কমাতেই এই উদ্যোগ। এর অংশ হিসাবে সম্প্রতি তিনটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি আউশের নতুন একটি হাইব্রিড জাত নিয়েও গবেষণা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া চলতি মাসে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আউশের নতুন একটি হাইব্রিড জাতের ধানের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

কৃষি গবেষকরা বলছেন, এক কেজি বোরো ধান চাষে ৩ হাজার ২শ লিটার পানি লাগে। বছরের পর বছর বোরো ধান চাষের কারণে আমাদের দেশের পানির স্তর ৭-৮ মিটার নিচে নেমে গেছে। গভীর নলকূপ ও ইঞ্জিনচালিত শ্যালো টিউবওয়েল ছাড়া পানি তোলা যায় না। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছবে যে, আমাদের খাবার পানিরও সংকট দেখা দেবে। এ অবস্থায় বোরোর আবাদি এলাকা আর বাড়ানো ঠিক হবে না। এই বিবেচনায়, আউশ ধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী মৌসুমে আউশের জন্য ১৩ লাখ হেক্টরে আবাদ করা হচ্ছে। আর উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ লাখ টন।

আউশ একটি মৌসুমের নাম, এই সময়ে ধান হয় বর্ষার মধ্যে। তাই বাড়তি কোন সেচের প্রয়োজন হয় না। কোনও কারণে বৃষ্টি না হলে সম্পূরক সেচের প্রয়োজন হয়।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর বলেন, এক সময় আউশের এলাকা বেশি ছিল। কিন্তু বোরো আসার পর এই ধানে কৃষকরা বেশি আগ্রহ দেখায়। কিন্তু এ ধান আবাদে প্রচুর পানি লাগে। যেহেতু আউশ ধানে বাড়তি পানি প্রয়োজন নেই। এ কারণে আমরা এই জাতের ধান গবেষণায় বাড়তি নজর দিয়েছি। তিনি জানান, গতবছর আউশের ৩টি নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এছাড়া আগামীতে আউশের হাইব্রিড ধানও আসবে। ধানের মোট ৮৮টি জাত রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি জাত আউশের।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৯৪ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে তিন মৌসুমে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টন চাল উত্পাদন হয়। এর মধ্যে বোরোর আওতায় জমি প্রায় ৪৮ লাখ হেক্টর, আর উত্পাদন ১ কোটি ৯০ লাখ টনের বেশি। আমনের আওতায় জমি ৫৬ লাখ হেক্টর, উত্পাদন ১ কোটি ৩০ লাখ টনের বেশি। আউশের আওতায় জমি ছিল ১১ লাখ হেক্টর। আর উত্পাদন প্রায় ২৭ লাখ টন। গতবছরের চেয়ে এবার আউশের উত্পাদন ৯ লাখ টন বাড়বে-এমনটাই জানিয়েছেন ড. শাহজাহান কবীর।

আউশের প্রথম হাইব্রিড: দেশে প্রথমবারের মতো আউশের হাইব্রিড নতুন ধান পেল কৃষকরা। সম্প্রতি সরকার নতুন এ জাতের অনুমোদন দেয়। বেসরকারিভাবে গোল্ডেন বার্ন কিংডম প্রাইভেট লি. এই জাতের নিবন্ধন পেল যার নাম জিবিকে হাইব্রিড ধান-২। চীন থেকে আমদানি করা এ জাতটির চাল সরু, গড় জীবনকাল ১১৩ দিন এবং গড় ফলন হেক্টর প্রতি প্রায় ৫ টন। জাতটি বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে আবাদের অনুমোদন দেওয়া হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রধান বীজ তত্ত্ববিদ কৃষিবিদ আজিম উদ্দিন বলেন, এটি আউশ ধানের হাইব্রিডের প্রথম জাত। এ জাত কৃষকরা আবাদের মাধ্যমে আউশের উত্পাদন আরো বাড়বে বলে জানান তিনি।