প্রচণ্ড শীতে জুবুথুবু রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ

বৃষ্টির দুইদিন পর শুক্রবার দুপুরে সামান্য সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিলে রাজশাহী অঞ্চলে। কিন্তু সূর্য বেশিক্ষণ রোদের উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। যে কারণে শীতে জুবুথুবু হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের প্রাণিকূল। সারা দিনের হিমেল হাওয়ার পর সন্ধ্যায় কনকনে ঠাণ্ডায় কাঁপছে পদ্মা পাড়ের জনপদ। শীতবস্ত্রের অভাবে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষরা কষ্ট পাচ্ছে। শীত নিবারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা ফুটপাতের কম দামের শীতবস্ত্রের দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এছাড়া সন্ধ্যার পর ছিন্নমূল মানুষদের রাস্তার ধারে খড়-কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণও করা হচ্ছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
 
এদিকে শীতের কারণে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি।
 
রামেক হাসপাতলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আরিফুল হক জানান, আগত রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হৃদরোগ ও অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
 
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক লতিফা বেগম জানান, শুক্রবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ১১.৫ এবং সর্বোচ্চ ১৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। মাঘের বৃষ্টির পর প্রতিদিনই তাপমাত্রার ব্যবধান কমছে। জানুয়ারির শেষের দিকে রাজশাহী অঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অথবা মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
 
জেলা প্রশাসক মো. মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, এরই মধ্যে ৭০ হাজার পিস কম্বল মহানগরী এবং জেলার নয়টি উপজেলায় বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছে।