তীব্র শীতে কাঁপছে সৈয়দপুর

গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের মুখ দেখতে পায়নি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মানুষ। ‘মাঘের শীতে বাঘ কাঁদে’- প্রচলিত প্রবাদ সত্য হয়েছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার দাপটে হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে সৈয়দপুরের ৫ লাখ মানুষ। সারাদিন ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে চারদিক, সেই সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া। ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে উঁকি দিতে পারছে না সূর্য। 
 
গত কয়েকদিন ধরে রাত ৯টার পর থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশাপাত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বইছে শৈত্য প্রবাহ। খরকুটো জ্বালিয়ে আগুন তাপিয়ে শীতের দাপট থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে মানুষজন। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহনগুলোতে চলাচল করতে হচ্ছে। শীতে কাঁপছে হিমালয়ের কোলঘেঁষা সৈয়দপুরের উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। হাড় কাপানো শীতের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়েছে মানুষসহ গবাদিপশু।
 
হিমালয় থেকে সৈয়দপুরের দুরত্ব খুব কাছে হওয়ায় ঘন কুয়াশার কারণে এ সময়ে এলাকার মানুষ সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। সৈয়দপুরে বিমান আবহাওয়া অফিস জানায়, গত দু’দিন ধরে এ এলাকায় সূর্য আলো ছড়াতে পারছে না। দু’দিন থেকে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করছে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের পর তাপমাত্রা আরো নেমে যায়। ঘন কুয়াশার কারণে দিন-রাতের মধ্যে খুব একটা ব্যবধান নেই। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি হয়ে উঠছে ভয়াবহ। 
 
দিনভর প্রচণ্ড শীতের ফলে ক্ষেতমজুর ও শ্রমজীবীরা কাজ করতে না পেরে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকছে অপরদিকে বিপাকে পরেছেন স্কুলগামী ছেলে ও মেয়েরা। 
 
বাসাবাড়িতেও দিনের বেলায় ঘরের বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে গৃহস্থালির কাজকর্ম করছেন অনেকেই। দুপুরের পর থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সন্ধ্যার আগেই পথ ঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। 
 
এদিকে শীতের কবল থেকে মানুষকে বাঁচাতে সরকারিভাবে যে কম্বল দেয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এরই মধ্যে রোটারী ক্লাব সৈয়দপুর, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শার্প ও শিক্ষার্থীরা টিফিনের টাকা বাচিয়ে শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেছে।
 
শীতের কবল থেকে বাঁচতে গরিব, অসহায়সহ সর্বস্তরের মানুষ পুরানো কাপড়ের দোকানে ভিড় করছেন। ফলে জমজমাট হয়ে উঠেছে শীতের পুরানো কাপড়ের দোকানগুলো। এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান, রাজনৈতিক ও সচেতন মানুষদের শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন সমাজের সুধী মহল।