বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ‘টাকার অভাব থাকলেও আস্থা হারানো যাবে না। দেশ একবারে পরিবর্তন না করে ধীরে ধীরে পরিবর্তন করতে হবে। ব্যাংকারদের কাজ হবে উদ্যোক্তাদের আশা ও উৎসাহ জাগানো।' শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহীর শাখার কনফারেন্স রুমে স্থানীয় নতুন উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, 'সরকার বিদ্যুৎ ও রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করছে। এখন ব্যবসায়ীদের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। বিশ্ব বলছে বাংলাদেশ একটি আশাবাদী দেশ। বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। খুব শিগগিরই রপ্তানি ৮ থেকে ৯ ভাগে উন্নীত হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত ও টেকসই করতে হবে। এতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় সাফল্যের প্রবৃদ্ধি দেশ হবে। সারা বিশ্বের রোল মডেল হবে।'
গভর্নর বলেন, 'ব্যাংকগুলোকে নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি সাহস ও সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। প্রত্যেক ব্যাংকের ব্রাঞ্চকে ন্যূনতম একজন করে নারী উদ্যোক্তাকে ঋণ দিয়ে নারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। নারীসহ সব উদ্যোক্তাদের সাহায্য করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব সহযোগিতা দেয়া হবে। দেশে নতুন নতুন অনেক ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আউট সোর্সিং বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে দেশের বেকারত্বের হার ব্যাপক কমানো সম্ভব।'
তিনি ব্যাংকারদের কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, সবজি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারীদের সহযোগিতা করতে হবে। তাহলেই আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ দেশের দুই কোটি মানুষ মধ্যবিত্ত হবে। তাদের আয় রোজগার বাড়বে। পরিবারের স্বাচ্ছলতা বাড়লে দেশ উন্নত হবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদাগুলো পূরণ হবে। দেশকে রোল মডেল করতে হলে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'অর্থনীতির পলিসি বুঝতে হবে। এই বাস্তবতা জানা প্রয়োজন। বাস্তবতাকে স্পর্শ করে উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্রামের সমস্যাগুলোর সমাধান ও পরিবর্তনের জন্য অর্থনীতির অবস্থা বুঝতে হবে। দ্রুত দিন বদলাচ্ছে, এখনকার সফল কর্মকাণ্ডের সুফল আগামী ১০ বছরে বোঝা যাবে। বাংলাদেশের মনের জগতের পরিবর্তন হয়েছে, সাফল্যের পরিবর্তন আসছে। উদ্যোক্তারা দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকার ও উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় পোশাক শিল্প রপ্তানির তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে বিশেষ তহবিল করা হয়েছে।'
বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী শাখার নির্বাহী পরিচালক জিন্নাতুল বাকেয়ার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক এসএম মনিরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী শাখার মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার মজুমদার।
আরও বক্তব্য রাখেন- ন্যাশনাল ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াশিদ আলী খান, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুর রহমানসহ স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাগণ।